RSS
কবি, লেখক, সমালোচক, বাচিক শিল্পী, গল্পকার, মানবতাবাদী, নাস্তিক, যাদুকর

বন্ধ্যা


 
চোখের সামনে কয়েকবার মাথা এপাশ ওপাশ করে
দম নিতে নিতে, দম থামাতে দেখলাম।
মায়ের কোলে..
তারপর মায়ের চিৎকার...
কে কোথায় আছো, দেখো আর শ্বাস নিচ্ছে না।
টিউশন থেকে ফিরছিলাম...
সেবার জনৈক মাকে পাস কাটিয়ে চলে এসেছিলাম।
থমকে দাঁড়িয়ে কিছুকাল।
সামনে সার সার থানে সাজানো ঈশ্বর
নাহ, তখনও শিখলাম না কিভাবে শেষ হয়।

প্রথমবার শ্মশানে বাবার হাত ধরে কেঁদে ফেলেছিলাম।

তারপর স্বেচ্ছায় বহুকাল... শ্মশান দেখলে ভয় পেতাম
সাদা থান দেখলে ভয় পেতাম
কাফন মোড়া কাউকে দেখলে সারারাত আড়ষ্ট থাকতাম...

দৌড়ে ঘরে এসে কাঁপতাম, ভাবতাম।
অন্ধকার গাঢ় হলে ক্রমশ চুপচাপ।
উনোনের পাসে বসে আগুন পোহাতাম।
পেঁচা ডেকে উঠলে....
মা-ও হাত ধরে ঘরে দৌড়ে আসতো প্রায়।

বাবাটা চিৎকার করে ঝাঁটা নিয়ে তেড়ে আসতো
হুস হুস করে আওয়াজ করে বলতো ভাগ।

সেবার মা-ও কেঁদে উঠেছিল চিল চিৎকার।

ঘুমন্ত ভাইটাকে বুকে জড়িয়ে...
সেও নিঃশ্বাস নেয়নি সেবার।

বাবা কোলে করে গোসল দিলো....
সেদিন বুঝেছি বাবা কেনো ঈশ্বর।

সাদা থান সেবার আনা হয়....
বাবা কোলে করে সারাপথ...
আর ভয় পাইনি সেবার।

সব দেখলাম...
কিভাবে ভাইকে কবরে শুইয়েছিলো সেবার।

তারপর বহু বৃষ্টি মাস

জড়ো করা নাড়ার গাদায় আগুন, ধোঁয়া দেখলাম

সাপ থেঁতলে খড়ের গোল্লায় চড়চড় পোড়ানোয় কি উল্লাস...
সব দেখতাম।

নাহ, তখনও শিখলাম না কিভাবে শেষ হয়।

শিখলাম না, কিভাবে শেষ হয়।।

মৃত স্বজনের শেষ মুখ দেখতাম না।
স্কুলের পাস দিয়ে খাঁ খাঁ রাস্তায়...
কবরের দিকে তাকালে বুক ঢিপঢিপ করতো আমার।

পেছনে দাঁড়িয়ে দেখছি অতীতের অপমৃত্যু সব।
তখনও শিখলাম না কিভাবে শেষ হয়।

বহুবার জোড় কলম বেঁধে সফল হয়নি চারাগাছ।

মাপজোখ করে বাঁধতে হয়, পারিনি তা

অঙ্কুরোদগমই সার।
তাও শিখলাম না , সম্পর্ক কিভাবে শেষ হয়।

কিভাবে দিলে পাশে থাকা হয়, অঙ্কুরোদগম গজায়?

জল কাদা ঝাপটায় মূর্তির মাটি খসে কাঠামো কঙ্কাল।

কেউ কেউ ঝুলে নিলো সিলিং ফ্যান, আড়কাট
কেউবা রাস্তায় সার সার খিলখিল বকবক।

কেউবা সামনের খড়কুটো ধরে বেঁচে নেয় শেষবার।

শিখলাম, কিভাবে শেষ হওয়া বন্ধ্যা ।।

★ লেখা : বন্ধ্যা
★ কলমে : বিষফল (07.09.2022), 02.20 A.M.

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

হতশ্রী


 শুয়ে আছেন আমার নবাব সিরাজ, বাংলা!
অবহেলায়...

শ্বেত পাথরে জাফর; মিরজা...

সে অম্বুতে অ্যাসিড....দূষণ কেনো নয়?

শিক্ষায়, পাতায়....

আড়ম্বর।

আমরা স্নান সেরে পবিত্র হই সেথায়!

মেকি প্রলেপ পোষাক, খাদ্য কাঁটাচামচ সার।

গর্জন নেই কারো হৃদয়ে আর.....

ঘুমিয়ে আছেন তোমার নবাব সিরাজ, বাংলা....!

বিড়াল পুষছি গৃহময়...
অ্যাকুরিয়ামে মাছের গুঞ্জন....
ছাদময় টব, দোলনা।

আলমারিতে চাকুরির টাকায় বই বিলাস...
প্রিয়ার চোখে মহুয়া পুরুষ সাজার সং ছয়লাপ।

গর্জন নেই কারো হৃদয়ে আর.....

ছপছপ জলে তোলা শুশনি শাক....
মা আমার আজ ঘুম দরকার।

বিপ্লব পোষা বুকটা বন্দি খাঁচা....
অহরহ শ্বেত শাসনের হুঙ্কার।

রঙিন পোশাকের হুঙ্কার....

সাইরেন নেই কোত্থায়।

ভগীরথ, তুমি নয়....
এ গঙ্গা দূষিত অশ্রুসব।

ভেজাক... ভাঙুক মাটি ও স্বপন।

চিল ডানা মেলছে পতপত...

ছেলের দল ঘুঁড়ির সুতোতে ঘষছে গুঁড়ো কাঁচ।

কপালে সবার আজ লবন সৈকত।

সমস্ত ধ্বজাগুলো মাটিতে পুঁতে ফেলে....
ঘুমাবো আজ।

চেঁটে পুঁটে খেয়ে নেবো হরিণ মাংস এবার...

শুয়ে আছেন তোমারও নবাব, বাংলা!

★ লেখা : হতশ্রী
★ কলমে : বিষফল (03.09.2022), 11.37 P.M

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS