চল পাহাড়ি শ্যাওলায়...
কুয়াশায় ধোঁয়া উঠুক ঘুগনির হাঁড়িটায়।
দুকানে শক্ত করে ধরে থাকো তোমার হাতটা...
আমার দাঁতে ছিঁড়ে যাক মচমচে পিঁয়াজি গোটা।
আমি গড়াগড়ি খাবো পাহাড়, আমি গড়া গড়ি খাবো এবার....
আমার পিঠে বুকে কপালে তোমার জলছাপ।
আমি হুড়মুড় করে নদী হবো একবার...
নদীতো ঐশ্বরিক অশ্রুজল।
এমনই হোক পুনর্জন্ম কদাচ।
নদীর পেট চিরে তোলা কাঁচামাছ.....
সতীদাহে ঝাঁপ দেওয়া পাখি গোটাকয়....
ধোঁয়ায় ঝলসাক।।
গ্লাইডার থেকে ঝাঁপ দেওয়া মন সবার....
ভিজে শ্যাওলায়, ভিজে শ্যাওলায়।।
আমার খুব খেতে ইচ্ছে করছে আজ....
আমার খুব পেতে ইচ্ছে করছে আজ...
একাধিক মৃত নক্ষত্রের সুবাস।
টপে পড়ুক জিভে গাছেদের রস।
★ লেখা : ছুট
★ কলমে : বিষফল ( 08.12.22), 10.48 P.M
ছুট
ভারসাম্য
ছোট বেলায় এক পায়ে দৌড়ে গাছের পাতা ছেঁড়ার সুযোগ পেয়েছিলাম কয়েকবার...
আজও ছিঁড়ি...
চিঠির খাম, ফেবি কুইক গাম।
ঘন ঘন ন্যাড়া করলে শুনতে পেতাম....রাজদন্ড মাথায়
তাই ব্লেডটার সাথে শত্রুতা করে নিলাম।
ছোট বেলায় এক পায়ে দৌড়ে গাছের পাতা ছেঁড়ার সুযোগ পেয়েছিলাম কয়েকবার...
শৈশবময় কোমর অব্দি জল,
তাই আর জলে নামি না।
সূর্য স্নানে তৃপ্ত হই, গঙ্গা তনুতে নয়।
একটাও এক্স রে ফিল্ম পেলাম না....
শিশুর মুখে লজেন্সের চন্দ্রগ্রহন দেখলাম।
দাদুর দাড়ির সাদা চুল ঘন ঘন মুঠিতে খামচে ধরতাম....
আজ হৃদয় আর কপাল!
ক্রমশ.... ব্যাঙের কোঁ ক্যাঁ গোঁ গ্যা....
আজ সোনা ব্যাঙের ডিনার।
যতবার আকাশ পথে ব্রিজ বানাতাম
দুলতে দুলতে কাঁপতে কাঁপতে ছায়া!
ভীষণ নির্মম.....
নিমডাল ভাঙতে গিয়ে প্রত্যেকবার ফিরে আসতাম
আজ দাঁতময় অবহেলার পাথর।
মার্বেল পাথর বুকময়।
নয়নে নয়নে বর্ণালী কাচের অশ্রুজল।
জিরাফের মতো গলা উঁচিয়ে মূক-রহিত।
শকুনের ঠোঁটে আজ নিরীহ কবুতর।
★ লেখা : ভারসাম্য
★ কলমে : বিষফল (01.12.2022) 11.53 P.M
সৃষ্টি-শ্বাস
আরেক পা, আরেক পা, আরেক পা...
এই নিন নৌকা
দিন পা
উহুঁ
ছেড়ে দিন আঁচলটা
বেশ এবার
পত পত নৌকা পাল।
উহুঁ আসছে না
খুলে দিন চুলটা
ক্লিপ কাঁটা?দিন ছুঁড়ে দিই জলটায়
একপা একপা আরেক পা....
জোয়ার বন্দি না
উড়ে যাক তিরতির লোমটা
বসবেন?
দুলছে হাল?
মাঝি দাঁড় বাও দরিয়ায়
মেঘ করছে, ঘনিয়ে আসছে অন্ধকার
প্রেম পাক, প্রেম পাক
তুমি মূর্তি নটরাজ
খোলস ছাড়ছে মেঘ চাঁদ
খোলস ছাড়ছে পর্ণমোচী কবুতর
এক পা, এক পা
পৃথিবী ফুলছে, ফুলছে...
ডিম্বাকার।
উড়ে যাক তিরতির লোমটা
উড়ুক্কু মাছ মাথার উপর সাঁই সাঁই
শরীরময় আঁশটে সুবাস।
হাত, হাত, হাত......
★ লেখা : সৃষ্টি-শ্বাস
★ কলমে : বিষফল ( 14.11.2022), 12.24 A.M
ইতি কিয়েভ
ওদের কোনো স্কুল নেই, শিক্ষা নেই
শুধু আছে সঞ্চিত চটি আর রক্তমাখা জামা।
ভ্যাকুয়াম বোম্বে ছারখার বইয়ের পাতা
ছারখার স্বপ্নের পোতাশ্রয়।
ওদের পায়ের বল আকাশে মাথার ওপরে ওঠে না
সন্ন্যাস নিয়েছে গির্জা, মাঠের ঘাস
সন্ন্যাস নিয়েছে বাতাস।
ওদের কোনো শিক্ষা নেই, ওদের কোনো ঈশ্বর হয় না
কিম্বা পতাকা।
উঠানে টকবগ করে ফোটে অ্যাসিড জল,
ছুটে এসে চুমুক দেয় বেচারা ঈশ্বর সন্তান।
ওদের কোনো দেওয়াল হয় না,
ওদের কোনো চিরহরিৎ বৃক্ষ কোথায়?
জিপের চাকা গেঁড়ে যায়, থরেথরে সাজানো লাশের কাদায়
ঘুঁড়ির সুতোয় ঢোঁ মারে মৃত শকুনের কান্না
কিয়েভে আর একটাও কাক শাখা পাবে না
একটাও টবে, কেউ জল ঢালবে না
উমাংকা নদীতে একটাও হাত নেই দাঁড় টানার....
টিসার জল আর চলকে জগৎ দেখবেনা।
কারপাথিয়ান, তুমি বুকোভেলের থেকে অশ্রু ধার নাও....
শুধু আছে সঞ্চিত চটি আর রক্তমাখা জামা।
হেলান দেওয়ার, হে কিয়েভ; একটা চিরহরিৎ বৃক্ষ কোথায়?
★ লেখা : ইতি কিয়েভ
★ কলমে: বিষফল (04.11.2022), 10.55P.M
Note : ১. বুকোভেল: বুকোভেল হলো ইউক্রেনের একটা বড়ো শহর, যেখানে ইউক্রেনের সবচেয়ে বড় স্কি রিসোর্ট রয়েছে ।
২. কারপাথিয়ান পাহাড়
৩. টিসা নদী
৪. কিয়েভ : কিয়েভ ইউক্রেনের রাজধানী
উর্দিহীনতা
পুলিশ তোমার কটা ভ্যান?
ছাতির কাছে নতো নয়?
পুলিশ ?
তোমার সন্তান?
শিক্ষক নয়?
রাস্তায়?
পুলিশ তোমার লাঠি কোথায়?
গুঁড়িয়ে দাও ছাতি ঠ্যাং....
পুলিশ?
তোমার উর্দি ; কেনা তো নয়?
★ লেখা : উর্দিহীনতা
★ কলমে : বিষফল (19.10.2022), 12.36 P.M
তৈলাগার
নদী পাড়ের নরম ঘাস...
পাথর ফুঁড়ে, ডাকে আমায়।
আমি চট করে ছুটে যাই
ভেজাই পা
আহ্
তোর দৈবিক বুকে নামার নগ্ন পা।
আমি ভুলে যাই পুরুষ ; নর....
পুরুষ সূর্য ক্রমশ বিছানায়, কম্বলে নতো হয়
শিরশির কুয়াশায় চারদিক ক্রমশ শর ....
ছলাৎ জল পায়ে ভ্রমণ এক এক।
আমার পায় আটকে যায় ঘাস
আলিঙ্গন তার....
আমি ছাড়িয়ে নিই, বুকে সাদা থান।
টকটকে লাল চা...
গর্জে ওঠে কেটলি, রাজপথ।
উর্দিময় এত নির্লজ্জতা, ম্লান
থমথমে নদীতট, শূন্য আকাশ।
মচকে গেছে নিব....
পৃথিবী আসামী আজ।
সেলুলারে মাখানো হয় মোম ; শেষ দড়িটায়...
★ লেখা : তৈলাগার
★ কলমে : বিষফল ( 17.10.2022), 11.07 A.m.
উদগিরণ
আমারও একটা পালকি চাই সখা
নর্তকী রাজপথে নাচিবে হেলা!
ছড়ায়াছে ফুল কত হার মালা শোভা
আমারও একটা পালকি চাই হে ঈশ্বর।
ডুবিছে লক্ষ্মী সারস্বত, নিম কাঠে হে জগো
নয়নে গঙ্গা পূজিছে মা।
জ্বালো আলো, নাচো.....
মুখোশে গলাও নয়ন।
স্মৃতি ভ্রম এ শহর
ধানের আলে ছেঁড়া পোষাক, রক্ত
নাচো ঘড়ি নাচো, প্রহর
ফিংগার প্রিন্ট এ উঠে আসে তোমার বমন
চেঁটে খাই সে তরল....
পালকি সাজাও, হাঁই মারো হাঁই মারো।
তীব্র আলোয় পৃথিবীটায় কোজাগর
আমার মুঠিতে শোলা, ধান নেই বুকটায়
ফড়িংও নেই ময়না।
বনবন করে ঘোরে না আর বাদল পোকা
ফিঙে ছাতার জটলা আর দেখিনা
এখন সব সার্কাস, সব সার্কাস।
মনুষ্য সার্কাস
পশুরা স্বাধীন আজ, বেড়ি হীন সব্বার।
আমাদের অ্যাশ ট্রে তে জমা হয় চুরুট পাতা
আমারও একটা মাইক্রোফোন মৃত্যু প্রয়োজন।
★ লেখা : উদগিরণ
★ কলমে : বিষফল (09.10.2022), 11.32 P.M
তট
আমার কন্ঠস্বর শুনেছো তুমি...
আমার স্বর শোননি।
স্বাক্ষর, কত ডিগ্রি সব।
নয়নের যুক্তাক্ষর মাতৃভাষার নয়?
উচ্চারনে বর্ণ ভ্রম?
মুক সাহিত্যের অধ্যায়ন দরকার
মুক শব্দের মুখাভিনয়।
হোক অধ্যায়ন, হোক অধ্যায়ন।
নয়নের যুক্তাক্ষর পঠিত হয়
স্থান?
নদীতট নদীতট।
★ লেখা : তট
★ কলমে : বিষফল (02.10.22), 11.06P.M.
প্রলেপ গাথা
অরুচি আসছে, গলা কিটকিট করছে।
আমার হাতে ঘুগনি, একটু টকজল?
বিট লবণ আর প্রেম, একটু ছড়াবেন?
দিব্যি ঘুমাচ্ছি, চোখে একটু লেবু দেবেন?
অ্যালার্ম আর মেসেজ, বুকের কফের মতো...
না তুললে আসে না
তুললে রক্ত সহ।
এর নাম প্রেম স্বজন, এর নাম অপেক্ষা।
অরুচি আসছে, আরেকটু বিট লবণ হবে স্যার?
একটা গোটা পাতিলেবু কেটে সারা মুখে চটকালাম....
নিম ছাল ভেজানো জল মুখে ঢাললাম
দু হাতে মধু ঘসে প্রলেপ দিলাম।
উচ্ছে গুলো বেটে তাতে মেশাই মাছের পিত্তরস
আমার হাতে ঘুগনি, একটু টকজল?
হাতের জলে গুলতে গুলতে চাঁদটা ট্যাবলেটের মতো গুলে যায়.....
স্বপ্নের দাম বেঁধেছি সব, এক্সজিবিশন হবে ক্যাথিড্রাল ময়দান ...
আর্টেজীও কূপ দেখেছেন স্যার ?
আমি বলি প্রেম ওটা ।
আমার হাতে ঘুগনি, একটু টকজল?
★ লেখা : প্রলেপ গাথা
★কলমে: বিষফল (18.09.2022), 10.49 P.M.
খোসা
নদীর বুকে চলকে ওঠে যেমন ঝড়,
মেঘের কোলে গুড়গুড় কড়কড় মচ্....
আমার স্নায়ুর ভীষণ জ্বর,
ফল্গু জলের তৃষ্ণা অনুর্বর।
লড়াই বাঁধে, দেওয়াল জুড়ে ক্ষয়।
দেখি বজ্র আলোয়, অস্তিত্বহীনতা আর ঈশ্বর
সাদা থানের মতো আলো, ভীষণ ভয়।
বজ্র গোনে ধারাপাত, গুড়গুড় কড়কড় মচ্
শিশুর খলখল ঠোঁটের মতো নড়ছে বিটপ।
স্টোভে ফুটছে খরগোশ....
শেষবার ; মেখে খাবো ভাত।
আমার ঘেন্না হবে ও অলঙ্কার, ও কাজল।
দূরত্ব রাখ, দূরত্বে থাক।
থুঃ ফেলি ডাস্টবিন টায়....
আমারও আকাশ থাকবে, হোক ঘন জলভার।
পুনর্জন্ম এক জন্মে বহুবার হয়।
ভাত.... ভাত.... ভাত....
কাক.... কাক.... কাক....
মূল্য সাঁটিয়ে ঘুরে বেড়ান, আমিও আমারটায়....
নদীর বুকে চলকে ওঠে যেমন ঝড়,
মেঘের কোলে গুড়গুড় কড়কড় মচ্....
চিনাবাদামের খোসা ভাঙবো?
ভীষণ অভ্যস্থ, গোলমরিচও।
কাপালিক ঝড়ের হৃদয় এ বুকে প্রতিস্থাপন।
★ লেখা : খোসা
★ কলমে : বিষফল ( 12.09.2022), 07.50 P.M.
নিপাত
বুকের নরম মাংসে চর্বি থাকে, প্রেম নয়।
দাঁতে মেশে ব্রান্ডেড সাবানের ঘ্রান, স্নেহ নয়।
স্নেহের কোন গন্ধ হয়না।
কামের নিজস্ব গন্ধ হয় যোনিময়।
তলপেটে কোন প্রেম থাকে না, কিম্বা পুরুষাঙ্গের ডগায়।
স্তন বেয়ে গঙ্গা নেমে আসলেও, নারী দেবী হয় না।
আপনার তলপেটে যেদিন ক্ষুধা থাকবেনা....
বাকি সব শখ।
অথচ মাংসে মাংসে কুরুক্ষেত্র, লঙ্কা।
তীব্র লবঙ্গগুলো কি ভীষণ ঝাঁঝ...
কি তীব্র ঝাঁঝ প্রতিটা অন্তর্বাস।
প্রসাধনে রাঙা চোখ মুখ হাত।
চলুন হৃদপিণ্ডের ব্যায়াম শিখে নেবো আজ....
চলুন মস্তিষ্কের রিসাইকেল বিনে দুঃখ মোছা যাক।
অদ্য ভাবুন...., আমিটা অমর।
মাংসে মাংসে যুদ্ধের বাজান সাইরেন....
দাঁতে স্পর্শ নেই, ব্রান্ডেড সাবানের ঘ্রাণ।
★ লেখা : নিপাত
★ কলমে : বিষফল ( 10.11.2022), 11.18 P.M
বন্ধ্যা
চোখের সামনে কয়েকবার মাথা এপাশ ওপাশ করে
দম নিতে নিতে, দম থামাতে দেখলাম।
মায়ের কোলে..
তারপর মায়ের চিৎকার...
কে কোথায় আছো, দেখো আর শ্বাস নিচ্ছে না।
টিউশন থেকে ফিরছিলাম...
সেবার জনৈক মাকে পাস কাটিয়ে চলে এসেছিলাম।
থমকে দাঁড়িয়ে কিছুকাল।
সামনে সার সার থানে সাজানো ঈশ্বর
নাহ, তখনও শিখলাম না কিভাবে শেষ হয়।
প্রথমবার শ্মশানে বাবার হাত ধরে কেঁদে ফেলেছিলাম।
তারপর স্বেচ্ছায় বহুকাল... শ্মশান দেখলে ভয় পেতাম
সাদা থান দেখলে ভয় পেতাম
কাফন মোড়া কাউকে দেখলে সারারাত আড়ষ্ট থাকতাম...
দৌড়ে ঘরে এসে কাঁপতাম, ভাবতাম।
অন্ধকার গাঢ় হলে ক্রমশ চুপচাপ।
উনোনের পাসে বসে আগুন পোহাতাম।
পেঁচা ডেকে উঠলে....
মা-ও হাত ধরে ঘরে দৌড়ে আসতো প্রায়।
বাবাটা চিৎকার করে ঝাঁটা নিয়ে তেড়ে আসতো
হুস হুস করে আওয়াজ করে বলতো ভাগ।
সেবার মা-ও কেঁদে উঠেছিল চিল চিৎকার।
ঘুমন্ত ভাইটাকে বুকে জড়িয়ে...
সেও নিঃশ্বাস নেয়নি সেবার।
বাবা কোলে করে গোসল দিলো....
সেদিন বুঝেছি বাবা কেনো ঈশ্বর।
সাদা থান সেবার আনা হয়....
বাবা কোলে করে সারাপথ...
আর ভয় পাইনি সেবার।
সব দেখলাম...
কিভাবে ভাইকে কবরে শুইয়েছিলো সেবার।
তারপর বহু বৃষ্টি মাস
জড়ো করা নাড়ার গাদায় আগুন, ধোঁয়া দেখলাম
সাপ থেঁতলে খড়ের গোল্লায় চড়চড় পোড়ানোয় কি উল্লাস...
সব দেখতাম।
নাহ, তখনও শিখলাম না কিভাবে শেষ হয়।
শিখলাম না, কিভাবে শেষ হয়।।
মৃত স্বজনের শেষ মুখ দেখতাম না।
স্কুলের পাস দিয়ে খাঁ খাঁ রাস্তায়...
কবরের দিকে তাকালে বুক ঢিপঢিপ করতো আমার।
পেছনে দাঁড়িয়ে দেখছি অতীতের অপমৃত্যু সব।
তখনও শিখলাম না কিভাবে শেষ হয়।
বহুবার জোড় কলম বেঁধে সফল হয়নি চারাগাছ।
মাপজোখ করে বাঁধতে হয়, পারিনি তা
অঙ্কুরোদগমই সার।
তাও শিখলাম না , সম্পর্ক কিভাবে শেষ হয়।
কিভাবে দিলে পাশে থাকা হয়, অঙ্কুরোদগম গজায়?
জল কাদা ঝাপটায় মূর্তির মাটি খসে কাঠামো কঙ্কাল।
কেউ কেউ ঝুলে নিলো সিলিং ফ্যান, আড়কাট
কেউবা রাস্তায় সার সার খিলখিল বকবক।
কেউবা সামনের খড়কুটো ধরে বেঁচে নেয় শেষবার।
শিখলাম, কিভাবে শেষ হওয়া বন্ধ্যা ।।
★ লেখা : বন্ধ্যা
★ কলমে : বিষফল (07.09.2022), 02.20 A.M.
হতশ্রী
শুয়ে আছেন আমার নবাব সিরাজ, বাংলা!
অবহেলায়...
শ্বেত পাথরে জাফর; মিরজা...
সে অম্বুতে অ্যাসিড....দূষণ কেনো নয়?
শিক্ষায়, পাতায়....
আড়ম্বর।
আমরা স্নান সেরে পবিত্র হই সেথায়!
মেকি প্রলেপ পোষাক, খাদ্য কাঁটাচামচ সার।
গর্জন নেই কারো হৃদয়ে আর.....
ঘুমিয়ে আছেন তোমার নবাব সিরাজ, বাংলা....!
বিড়াল পুষছি গৃহময়...
অ্যাকুরিয়ামে মাছের গুঞ্জন....
ছাদময় টব, দোলনা।
আলমারিতে চাকুরির টাকায় বই বিলাস...
প্রিয়ার চোখে মহুয়া পুরুষ সাজার সং ছয়লাপ।
গর্জন নেই কারো হৃদয়ে আর.....
ছপছপ জলে তোলা শুশনি শাক....
মা আমার আজ ঘুম দরকার।
বিপ্লব পোষা বুকটা বন্দি খাঁচা....
অহরহ শ্বেত শাসনের হুঙ্কার।
রঙিন পোশাকের হুঙ্কার....
সাইরেন নেই কোত্থায়।
ভগীরথ, তুমি নয়....
এ গঙ্গা দূষিত অশ্রুসব।
ভেজাক... ভাঙুক মাটি ও স্বপন।
চিল ডানা মেলছে পতপত...
ছেলের দল ঘুঁড়ির সুতোতে ঘষছে গুঁড়ো কাঁচ।
কপালে সবার আজ লবন সৈকত।
সমস্ত ধ্বজাগুলো মাটিতে পুঁতে ফেলে....
ঘুমাবো আজ।
চেঁটে পুঁটে খেয়ে নেবো হরিণ মাংস এবার...
শুয়ে আছেন তোমারও নবাব, বাংলা!
★ লেখা : হতশ্রী
★ কলমে : বিষফল (03.09.2022), 11.37 P.M
শিলা
ছাই দানা
জ্যোৎস্নাহত
রুদ্রাক্ষ-জল
পুলি
অন্তিম
থইথই জল
ওই একটা কই মাছ, ওই একটা শোল মাছ...
আহ্, রাজ্য জুড়ে থইথই জল।
ওই একটা ডিলডো টয়;
টয়লেটে ওই একটা খুলে ফেলা কন্ডোম, আজ।
ওই কতগুলো বেকার, ওই কতগুলো চাকুরের দল।
ওই কতগুলো বস্তি, ওই কতগুলো ফ্ল্যাট ;
ওই কতগুলো ছ্যাঁড়া কাঁথা, ওই কতগুলো টাকা...
প্রত্যেকটায় লেগে আছে যোনি ঘ্রাণ,
পুরুষাঙ্গের ফোঁটা।
ওখানে চেয়ার, ওখানে দল...
আমার ; রাজ্য জুড়ে থইথই জল।
ওই একটা মেঘ, ওই একটা কাজল নয়ান ;
দেশে ; বন্যার শেষ নেই কোথ্থায়।
★ লেখা : থইথই জল
★ কলমে : বিষফল (30.07.2022), 3.46 P.M
আর্দ্র
তমসা
কবি ও শব
বরাহ-প্রনয়
সুস্থ
কেমোফ্লেজ
ফনা
প্রবচন
শহরের থরেথরে সাজানো ল্যাম্পপোস্ট গুলো একবার নিভিয়ে দেবো...
আমি হেঁটে যাবো।
ডেকে উঠুক কাকগুলো...
মেঘ করুক তখন,
কেঁদে উঠুক পরিটা ভীষণ।
টস টস করে ঝরুক অশ্রু,
ভিক্টোরিয়ার মর্মর অশ্রু,
ঠোঁটে নিক ময়ূর...
হন হন করে এগিয়ে চলেছে ঈশ্বর।
রাস্তার ধারে, আবর্জনার সাথে জ্বালানো হোক ধূনা,
জলের ট্যাঙ্ক গুলো থেকে খুলে দাও পাইপগুলো সব.....
আমার দু কাঁধে ছেয়ে বসুক জোনাক।
ব্যানার প্লাকার্ড নামাও সব...
কাব্যে মুড়ে ফেলো শহর, পার্ক
ময়দানে টাঙাও শব্দ, অক্ষর, বাক...
শব যান গুলো শ্মশান থেকে শ্মশান ফিরে যাক ।
খালি পায়ে কবি হাঁটবে আজ...
ভেঁঙে গুঁড়িয়ে যাক ঘাসের কোমর, হাড় ।
হন হন করে এগিয়ে চলেছে ঈশ্বর।
★ লেখা : প্রবচন
★ কলমে : বিষফল (26.05.2022) & (27.05.2022)
রাত্রিমাস
নিঃসঙ্গ নারকেল গাছ ভিজছে ঠায়...
হৃদপিণ্ডে তার নকল পেসমেকার
কেঁপে কেঁপে উঠছে তা।
জোছনা শুঁষে শুঁষে রক্তশূণ্য জোনাক।
উনোনে মনোপিয়া ঘ্রাণ চটচট করে মাখা হয়...
হুস হুস করে বয়ে যায় জারজ বৈশাখ ।
তিরতির করে নত হয় গনেশ ভার্যা....
শরীরে তার বাসর চ্যুত রস।
ঠুকরে ঠুকরে ছোঁয় পরকীয়া বর্ষা
উত্তাল কেশ
আর তার কম্পমান ঠোঁট দ্বয়।
শিরা ছুঁয়ে কাঠপিঁপড়ে বাইছে গোটাকয়...
ফু দিলাম
এখন ওর সঙ্গম মাস।
মধু মুখময়।।
ছাদবাগান ভাগ হয় বিভিন্ন সম্পর্কটায় ।
সিঁড়িতে রোজ কত কাজল ঢেউ হয়।
নয়ন গুলোতে রোজ কত নতুন বর্ষা।
সব কিছু ছাড়িয়ে....
নিঃসঙ্গ নারকেল গাছ ভিজছে ঠায়।
অর্জুন গাছে পাখির বাসা তছনছ...
রিঠা ফল শুঁকে চড়ুই আর গায়?
রাধাচূড়া, কৃষ্ণচূড়া....
প্রকৃতির গায়ে-হলুদ, ফুল-শয্যা।
শিউলি, পলাশ?
নিত্য ছাদহীন সংসারে অভ্যস্ত ওরা....
মেয়েরা সুবিন্যস্ত চুল, ছেলেরা খালি গায়
হ্যাঁ, আজ এথায়, কাল ওথায়।
তারপরেও.....
তিরতির বর্ষাকাল, শামুক ব্যাঙ
পা পিছলে কচ্ছপের গায়.....
নিঃসঙ্গ নারকেল গাছ ভিজছে ঠায়...
স্টোভে ফোটে টগবগে চা....
উনোনহীন সংসারে ভাগ হয়।
মিলের মুড়ি, ঘুগনি আর কোচা শশা...
তেলশূন্য ডিমভাজায় পিঁয়াজ কুচি গোটাকয়
শন শন করে বয়ে চলে এসবের উপর দিয়ে কুমারী বৈশাখ।
মুরগির পায়ের ছাপ, গৃহস্থের উঠোনময়,
কামাক্ষ্যা.....
শুরু করো অনাঘ্রাতা যোনি মন্থন।
তছনছ হয় স্পর্শ, তছনছ হয় শব।
নিঃসঙ্গ নারকেল গাছ ভিজছে ঠায়...
★ লেখা: রাত্রিমাস
★ কলমে : বিষফল (11.30 A.M, 10.05.2022)
আ
ভীষণ অন্ধকার.....
সূর্য ছোঁয়নি এ খাদ।
ঘোড়াটার খুর আটকে থরথর....
পবনও নিথর
মিতা.... মিতা....
উচ্চ স্বরে চিৎকার
ক্রমে ক্রমে ফিরে আসে দু কানে আমার
হাত থেকে পিছলে যায় চাবুকটা
কোথায় যাবে নস্যর এ প্রান?
সূর্যাস্ত সূর্যোদয় কোথায়?
নীল তিমির জঠর এ নয়?
নক্ষত্রও খসে পড়েনা এ গভিরতায়....
বুনো হাঁসও এথায় নীড় পাতে না।
শ্যাওলা সংকেতে পাতাল( নব অজান্তা) এ এক
আমি সে শ্যাওলাতে ঠোঁট ছোঁয়ালাম
তালু ছোঁয়ালাম
পোষাক খুলে ফেললাম
প্রচন্ড হ্রেষাতে লাফিয়ে উঠলো ঘোড়াটা
বজ্রপাত ভীষণ চেনা
তীব্র অন্ধকার.....
আমার বুকের পাঁজর খুলে মাটিতে রাখলাম
তীব্র নতজানু হলাম...
আবারও বজ্রপাত।
নাহ্ এভাবেও ঈভ সৃষ্টি হলো না
পাথর দিয়ে ঠুকে ঠুকে হাড়টিতে কয়েকটা ফুটো করলাম
তীব্র জোরে ফুঁ দিলাম
কেঁপে কেঁপে উঠলো পাথর আসপাসের সব
আমার চোখ নিদ্রায় জড়িয়ে এলো হঠাৎ
আমার নগ্ন শিশ্নে কামড় বসায় একটা নগ্ন সাপ
আমি আ মিতা, আ মিতা বলে ককিয়ে উঠলাম....
প্রচন্ড হ্রেষা ধ্বনি আবারও খিলখিল পাথরটায়
সূর্য ছোঁয়নি এ খাদ।
ঘোড়াটার খুর আটকে থরথর....
পবনও নিথর
মিতা.... মিতা....
★ লেখা : আ
★কলমে : বিষফল (16.04.22), 10.13 P.M
প্যাহেলগাঁও
মনে পড়ে মিতা?
শতাব্দী পার আগে আমি তোমার কাঁধে হাত রেখেছিলাম।
মনে পড়ে শিকারা? আপেল বাগান?
প্যাহেলগাঁও?
মনে পড়ে মিতা?
আমি তোমার পাসে দাঁড়িয়ে ছিলাম।
তুমি বরফের চিৎকার সহ্য করতে পারছিলে না
আমি তোমার কানেরটা ঢেকে দিয়েছিলাম।
তুমি শেষ হেসেছিলে....
আমরা যখন মুঘল বাগ পৌছে গিয়েছিলাম
গোল্ডেন লেকের মিনা বাজারে তুমি আমার সে হাসিটা মনে রেখেছো মিতা?
শেষ বার তাকিয়ে ছিলে সেবার!
গন্ডোলা রাইডে তোমার হাতে আমার হাত?
মনে পড়ে মিতা?
শতাব্দী পারে তোমার হাতে আমার হাত?
লিডার রিভার কিম্বা অ্যারু ভ্যালি পার সিন্ধুটা?
তোমার চোখে চকচক করছিলো কাজলটা
তুমি পলকা ডানায় পতপত করে পতঙ্গ একটা
ভুলিনি গুলমার্গ, ভুলিনি বরফ কনা
তোমার সদ্যহীম হাত
আবারও মিলবো আমরা লাদাখ....
LOC তে বসে গুনবো চাঁদ
ঝাঁঝরা হওয়া কোন শহীদ-পোষাক
থাকবে আমাদের গায়
আমরা বরফখুঁড়ে পুঁতে দেবো অনিয়ম সব
দু'হাতে বরফ সংসার
সোনমার্গে তোমার আলিঙ্গন....
আমায় আমৃত্যু শীত বোধ হতে দেবে না
আমি শীত বোধ করিনা
তোমার শ্বাস, তোমার শ্বাস
সিসা হয়ে উঠেছিলো তোমার শরীর মিতা
আমি আর জোৎস্নায় তাকাই না
তাকিয়ে থাকি তোমার মাথায় চুর চুর তুষার
আমরা ঘোড়া ছুটিয়ে জোজিলা পাস থেকে ঝাঁপ দিলাম...
★ লেখা : প্যাহেলগাঁও
★ কলমে : বিষফল (08.04.22), 01.15 A.M.
















































