RSS
কবি, লেখক, সমালোচক, বাচিক শিল্পী, গল্পকার, মানবতাবাদী, নাস্তিক, যাদুকর

চালচিত্র

ছেলেটি মেয়েটির নাম ধরে ডাক দেয়,
মিতা.....
বছর তিনেক পর।

এ চিত্রটির কেমন রূপ হয় কবি জানেন না।

মেয়েটি ছেলেটির নাম ধরে ডাক দেয়,
পলাশ....
বছর তিনেক পর। 

এ চিত্রটির কেমন রূপ হয় কবি জানেন না।

প্রথম গল্পে ছেলেটি বিবাহিত, মেয়েটি বিবাহিতা।
গল্পের পটভূমি কোভিডের সময়.....
স্থান পৃথিবী, পশ্চিম বঙ্গের জেলা

দ্বিতীয় গল্পে ছেলেটি বিবাহিত, মেয়েটি অবিবাহিতা।
গল্পের পটভূমি কলেজ কাঁধ ভার বইয়ের পাহাড়....
স্থান পৃথিবী, এবারেও পশ্চিম বঙ্গের জেলা

এ চিত্রটির কেমন রূপ হয় কবি জানেন না।

কবি কোন নিষিদ্ধ নগরী বা মৌলবাদ অধ্যুষিত অঞ্চলের কথা বলছে না। 
তার দৃশ্যপটের স্থান পৃথিবীর যে কোন প্রেমিক প্রেমিকার।

তৃতীয় গল্পে ছেলেটি অবিবাহিত, মেয়েটি অবিবাহিতা

বছর তিনেক পর 
ছেলেটি মেয়েটির  নাম ধরে ডাক দেয়,
মিতা......
মেয়েটি ছেলেটির নাম ধরে ডাক দেয়,
পলাশ....

যা গেছে, তা যাক তবে আজ ?
আয়ু আর সম্পর্কে জোড়া তালি ; ছেঁড়া জুতার ন্যায়?
অপমান, অসম্মান, বোকা বনা উইঢিপির ন্যায়?

এ চিত্রটির কেমন রূপ হয় কবি জানেন না।

কে বলেছে ক্ষমা ঐশ্বরিক?
হেরে যাওয়া তো.... যুদ্ধ থামানোর ডাক।
ত্রিশুল, সুদর্শন চক্র, খড়গ গুলো ক্ষমার শ্রেষ্ঠ উপকরণ?

ছেলেটি মেয়েটির নাম ধরে ডাক দেয়,
মিতা.....

★ লেখা : চালচিত্র
★★ কলমে : বিষফল (03.12.2024), 9.58 P.M

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

অমৃত রহস্যে


ভিক্ষে দেবে?
কপালের উপর একটা হাত ; আমাকে?

ভিক্ষে দেবে?
ফুসফুসের মধ্যে দুটো ফুসফুস; তোমার?

ভিক্ষে দেবে?
চোখের মধ্যে দুটো কর্নিয়া; তোমার?

ভিক্ষে দেবে?
আরেকটা হাত আমার হাতের মধ্যে? 
ভীষণ শীত করছে।।

ভিক্ষে দেবে?
দুটো ডিফিব্রিলেটর বুকের মধ্যে? 
ভীষণ দম বন্ধ হয়ে আসছে আমার।

ভিক্ষে দেবে?
পাহাড়ি ঝরনার পাসে আমাদের অতীতগুলো পুঁতে?
কালাচের মতো কালো হয়ে যাওয়া হৃদপিণ্ড টাকে?
তারপরই ঘুমাবো
ভিক্ষে দেবে?

★লেখা : অমৃত রহস্যে
★★ কলমে : বিষফল (14.11.2024), 9.32P.M

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

আত্ম - অমর


এ জন্ম কি আমার প্রথম জনম?

কঠিন হৃদয় কি আমার এই একটা জীবনে কেবল?

অমর আমি, তোমার সাথে কতবার মিলেছি জানো তা?

কত বিচ্ছেদ বেদনা বুকে নিয়ে জন্মে মরেছি....
মনে নেই তোমার?

প্রত্যেকবার ছেড়ে যেতে হয়েছে মৃত্যু বন্ধায়....
কেনো এত কঠিন প্রত্যেকটা জন্মে, বোঝনি তা?

এ জন্ম কি আমার প্রথম জনম?

এ জন্মও কি তোমার প্রথম?

কখনও নারী কখনও নর.....

প্রত্যেকবার পালা ক্রমে হারিয়েছি তোমায়।

তুমিও হারিয়েছো আমায়।

ছেড়ে গেছো।

একা আমি পাষান? তুমি নও?

তুমিও হাত বাড়িয়ে সন্তান, প্রেম দুমুঠোতে ধরে রাখতে পারোনি 

বুঝেছি কেনো পাথর তুমিও প্রত্যেক জনমে.....

এত মায়া ছিন্ন কি হয়, যদিও প্রত্যেক জনম।

কখনও লতাফুল হয়েছো তুমি, আমি নিছক ফুল বালক।

তারপর, ভুলিয়ে দিয়েছে মায়া শত সহস্র জন্মের কোন আত্মজ।

ভয় নেই, অমর আমরা মিলবো বহুরুপে, বহু আবর্তে.... 
কঠিনতর হোক হৃদয়।

এ জন্মও কি তোমার প্রথম?

★★ লেখা: আত্ম- অমর
★★★ কলমে : বিষফল ( 30.10.2024), 4.44 P.M

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

অতর্কিতে..

কবির মৃত্যু হয় কিম্বা জানাজা....
কবির পুনর্জন্মে তুমি বিস্মিত নাহ?

মিতা?

তুমি কখনও বসন্তের রং, কখনও হাড় ভাঙা গোধূলি জাতিস্মর। 

পরশ পাথর হয়ে কখনও নদীর কিনারায় বন্ধা ঝিনুক শব ।।

যুগান্তর পার হবে, তির তির করে কাঁপা ফড়িং এর পায়।

ঠিক তখনই কোন এক গভীর সন্ধায়..... 

কবির মৃত্যু হয় কিম্বা জানাজা। 

তারপর হঠাৎ ধ্রুবতারা ক্ষয় .... 

কেঁপে ওঠে ঠোঁটের স্বর।

ব্লাকহোলে প্রচন্ড প্রলয়ে গ্রহদের মরিচিকা ঝড়

কবির পুনর্জন্মে তুমি বিস্মিত নাহ ?

★ লেখা : অতর্কিতে.. 
★★ কলমে : বিষফল ( 14.10.2024), 07.16 P.M

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

স্পর্ধা


কঠিন বিষাদ সময়
কবিতা, শিল্প খাবে না 
যে রাষ্ট্রে বিচার নেই
সুরক্ষা হীনতা
সেখানে কবিতা না না
কবিতার সৃষ্টিকর্তা কোর্ট নয়
বিচারক না
মুহ্য মূঢ় বেমানান
বিলাসিতা না আসলে কেউ কবিতা খায় না

হৃদয় সুখে না থাকলে কেউ কবিতা পড়বে না

চোখে জল নিয়ে আদিখ্যেতা কবিতা কেউ আর চায় না।

বারুদ বিদ্রোহ বোমা কবিতা যোগান দেয় না

নস্যি কিম্বা বন্যায় বিড়ির প্যাকেটও সে নয়।

ঈশ্বর হতে চাওয়া প্রত্যেকটা কবি গুলো আজ জেনে গেছে
তারা পৃথিবীতে বিরল ও বেমানান।

★ লেখা : স্পর্ধা
★ কলমে : বিষফল, (12.09.2024), 8.55 a.m

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

ক্ষতদাগ


গঙ্গা, তোমার নোনা জলে কতটা পাপ ক্ষয় হয়? 
মনের শক্ত নরম মাটিতে কুয়ো খুড়লাম সারা রাত ভীষণ আজ..... 

ঝাঁপ দিয়ে ডুবলাম তাতে কিছুক্ষণ 
ততক্ষণে চোখে মুখে নোনা বাতাস আর হৃদয়ে ইলিশের সংসার।

দেবাদিদেব এক টুকরো স্বর্গ কোথায়?
ঠোঁটে বুকে যোনিতে সমাজের হে প্রেম আমার।

লঞ্চের ঢেউয়ে তছনছ হয়....
পাতার বাতাসে প্রত্যেকটা রাত শরীর এলায়
সুসজ্জিত কামরায়..... রঙিন কাচের মজ্জায়।

হে গঙ্গা, তোমার নোনা জলে কতটা পাপ ক্ষয় হয়?
ডুকরে ওঠা সিগালেরাও আজ চুপচাপ
নয়নে তার শরীরহীন সজ্জা
আতসকাচে রোজ বড়ো করে দেখি প্যারামেসিয়াম।

স্বর্গের দরজায় পা দিয়ে লাথিতে হাট করে দেখলাম....

সন্তান কাঁদছে সন্তান।।
তোমার বুকের মাখন যতটা আজ,
আমার রাতের রুটির আয়োজন তা নয়?

এত নোনা জল কেনো, কার ঘৃণায়?
সূর্যের আগে কার কপালে দিতাম চুমা?

প্রজাপতির ডানায় দু ফোটা ঘাম,
সূর্যের বন্যায় রেটিনা দুটো খুলে ফেললাম।
হে গঙ্গা, তোমার নোনা জলে কতটা পাপ ক্ষয় হয়?

★ লেখা : ক্ষতদাগ
★ কলমে : বিষফল( 01.09.24),  11.32 P.M

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

সাধক ও ঈশ্বর

হাসপাতালের বিছানা থেকে বলছি স্যার

কান্না গুলো শ্যাম্পুর জলে ধুয়ে নিচ্ছি আজ।

সকাল বিকাল

রাত্রিতে বিছানা বন্যা আর কতকাল?

হাসপাতালের বিছানা থেকে বলছি স্যার

ঘুঘুর ডাক পায়রা কাক কতদিন দেখিনা

ট্রামের পাস কাটিয়ে দৌড়ে মেট্রোতে ঠিক কবে উঠেছি মনে নেই আর।

কলা পাতা থেকে কাঁচকলা কবে কিনেছি গ্রাম্যহাট মনে নেই আর।

করমচা পাকা গাল ভর্তি করে দুহাত....
কবে ছড়িয়ে বলেছি ভালো আছি পৃথিবী আমি এথায়

মনে নেই আমার।

বাইরের ঈশ্বর দেবালয় কতটা হাসির খোরাক বুঝি আজ এথায়

হাসপাতালের বিছানা থেকে বলছি স্যার

টিপটিপ করে শিশুর শরীরে যে স্যালাইন পৌছে যায়,

অমৃত তা নয়?

অম্লতে বুক জ্বালা করে ওঠা বমিতে বেরিয়ে আসে যে বড়িটা,

সূর্য তা।

সাদা অ্যাপ্রোনে যে তুতেটা মিশে যায়,
প্রেম তা।

ঈশ্বরের গলাতে কল্পনায় সাপ কেনো দেখে জগৎ হাসি পায়,
স্টেথোস্কোপ ওটা।

হাসপাতালের বিছানা থেকে বলছি স্যার

মাথার পাসে পুষে রেখেছি ফুচকা আইসক্রিম চাউমিন গরম ধোঁয়া উঠছে চা
পচন ধরেছে সেথায়।

এত সাদা থান কপাল ঢাকলে কি করে শান্তির হয় তা?

জরায়ুতে নোঙর গেঁড়েছে নরক নামক শব্দটা

চোখ বুজে অক্সিজেন নিতে হচ্ছে পচে যাওয়া ফুসফুসটায়
তীব্র যন্ত্রনায়......

হাসপাতালের বিছানা থেকে বলছি স্যার

শববাহী গাড়ি থেকে ছিঁড়ে এনো ফুল কিছু গোটাকয়

সার্জিক্যাল ট্রের গজ কাঁচি চিমটায় ছড়িয়ে দেবো.....
প্রেম বিশ্বাস।

ঠিক তখন আমার বুকে স্পর্শ নেয় ডায়াফ্রাম
আমি চোখ মেলে দেখি ঈশ্বর।

হাসপাতালের বিছানা থেকে বলছি স্যার

ধর্ষিতার বুক চেরা রক্ত আমাদের শরীরময়
বালতির জলে কি করে ধোবে তা?

স্কুল বাসের আওয়াজে রোজ কাঁদে হাসপাতালের বেডে শিশুটা

কতদিন প্রজাপতি আর ঘাস ফড়িং দেখা হয়নি তার

ড্রইং পেপারে আকাশ আঁকতে কত নষ্ট হয়েছে জল রং

সকাল থেকে সন্ধা হয়, এত রং কোথা থেকে কেনে ঈশ্বর?

হাসপাতালের বিছানা থেকে বলছি স্যার

★★★ লেখা: সাধক ও ঈশ্বর
★★★ কলমে : বিষফল (23.08.2024), 11.09 P.M

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

কাবিননামা

ল্যাম্পপোস্ট হয়ে ওঠো রজনীতে পুরুষ; এ প্রজন্ম গুলোয়।

প্যাঁচার শীৎকার আর বক শাবকের চিৎকার উরুতে পুষো না আর।

অন্ধকার গুলোয় বাবুই পাখির মতো বুকে জোনাক পুষে রাখো পুরুষ।

প্রজন্ম তোমায় বকপাখি আর সারস হওয়ার ডাক দিয়েছে এখন

তৈরি হও

দুধ দিয়ে রাজপথ আর অন্ধ মোড়গুলোকে ধুয়ে ষাষ্টাঙ্গে প্রণাম করো

আর উচ্চারণ করো.... রক্তের দানা আর পৃথিবীতে ছোঁবে না।

প্রতিজ্ঞা করো পুরুষ সকাল ভোর বিকাল সন্ধা,
অমরত্বের বৃক্ষে তোমার পরশুরাম সাজা লজ্জা ও হিংসার।

সিরিঞ্জ, অপারেশন টেবিল চিৎকার করে কাঁদছে ঠায়....
তার বুকে পরশ পাথর, ছুঁবি আয় আয়।

একবার যদি ঈশ্বর হতাম.....
তর্জনিতে কাচের মতো ভেঙে ফেলতাম, 
একটা রিপুর তাজমহল বানাতাম।

এ শরীরটা বৃদ্ধ হবে, মৃত্যুতো আমার  সহোদর।

নখ গুলোতে একটাও রাত আর খামচাতে দেবো না নপুংসক ঈশ্বর।

★ লেখা : কাবিননামা
★ কলমে : বিষফল (13.08.2024), 08.36 P.M.

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

রক্তবাস

শিরার রাজপথে ঘুমালাম গতরাতে.....
কি বিদ্রোহী রক্তের তোলপাড় বুদবুদ শব্দে।

ঘরের ছেলের ঘরে না ফেরার আর্তনাদ সেই রক্তের স্রোতে
শুনেছি বিনিদ্র রজনী জেগে
আধা তন্দ্রাতে।

হুটহাট বুলেটের আতঙ্কে ঝনঝনিয়ে লাফিয়ে উঠেছে
শিরা গুলো ক্ষনে ক্ষনে।

কল কল শব্দে শিরার বুকে কান পেতে শুয়ে কাটিয়েছি গতরাতে।

ফিনকি দিয়ে রক্ত বয়ে চলেছে অসুখ আর বিদ্রোহের দাবানল নিয়ে।

ঝালাপালা শব্দে দুকানে কন্ডোম নিয়েছি ভোররাতে।

এভাবেই বিপ্লব আর নিদ্রাকে আপোষ করে গেছি গতরাতে।

চিৎকার করে ওঠা দাবিতে টনটন নারীর বুকে,
রক্তের রঙিন স্যাম্পেন খুলেছি ঠিক গতরাতে।

এত রক্ত, এত মানুষের বুকে ফোয়ারার মতো সারসার রাজপথ

লজ্জিত হওনি? ভাড়াটে উর্দি, বুলেট?

আমার মায়ের চোখের কান্নায়, আগত আগষ্টের বর্ষা।

তুমি শুনতে পাচ্ছো?

সে তার গর্ভাশয়ে কতটা ভরেছে বিপ্লব?

ছাত্রের বুকে নিথরে ঘুমায় প্রেমিকা বুলেট গোটাকয়।

★ লেখা : রক্তবাস
★ কলমে : বিষফল (24.07.2024), 12.32P.M

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

ভেল্কি


মৃত্যুর রং মোমবাতির আলোর মতো......

শত সহস্র জ্বলা মোমবাতির কাছে আমি স্থির, মাথানত। 

প্রহরীরা ঘুমে ঢুলছে তখন......
আমি টপকে উঠে পড়ি হাসপাতালের ছাদের উপর। 

শহরের, গ্রামের প্রত্যেকটা হাসপাতাল, মর্গ নিথর। 

আমি প্যাঁচা আর বাদুড়ের গলা টিপে দুহাতে.....

ফস করে যোগ দিই মোমবাতির সতীদাহে, চিরন্তন।

শত সহস্র মোমবাতির আলোতে আমি প্রীয় মৃত্যুকে  সেলিব্রেট করি এভাবে এখন.....

নতজানু হই দরগা, মন্দিরে, মিছিলে, চার্চে......
মৃত্যুর রং মোমবাতির আলোর মতো।

হাতের গ্লাসে মরার ঘিলুর সরবত,
গন্ডিতে মোমবাতি নক্ষত্র মন্ডল। 

ধোঁয়া উঠছে কোথাও কোথাও...
সলতের কি তীব্র বমি ওঠা চিৎকার শহরে তখন। 

আমি নিপুণ হাতে নিজ ছায়াপথ অঙ্কনে ব্যস্ত ভীষণ...... 

চিৎকার করে কেঁদে ওঠে লাশকাটা ঘরের হৃদয়। 

দরগার চাদর, প্রতিমার সামনে আমি নতজানু হইনা কখনও,

মৃত্যুর রঙ,মৃত্যুতে আকন্ঠ নতজানু হই প্রজন্মময়।

চুলের অলিন্দে অলিন্দে গুঁজে দিই গুঁড়ো হেনা,
নয়ন প্রান্তরে বুনে দি কাজলের মেঘগুচ্ছ,
কড়ে আঙুলে টেনে তুলি জরা ভার।

মাদারির শেখা শ্রেষ্ঠ ভেলকি আজ জীবনময়।

★ লেখা: ভেল্কি 
★ কলমে : বিষফল (14.06.2024), 12.27 A.M

★★★ বিশেষ দ্রষ্টব্য : লেখার সাথে ব্যবহৃত মোম সহ নারী ছবিটি সংগৃহীত

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

প্রস্তরীভূত


ওগো শুনছো?
দেশটার জন্য একটা নদী কিনছি.......

পাগলা ষাঁড়ের মতো, ওর চোখে একটা লাল কাপড় বেঁধে দোবো

মিতা, তুমি তাতে অশ্রু, কাজল ধুয়ো?

সবার জীবনে একটা করে নদী থাকে,
কি জানি কি হয়, আচমকা সে সব ভাটায় শুকিয়ে কাঠ কেনো যে হয়!

ওগো শুনছো?
দেশটার জন্য একটা নদী কিনছি....

শুকিয়ে যাওয়া নদী গুলোয়, কত্ত পলি সব
আমি চাঁদের আলোয়, জোনাকের আলোয় সব খুঁড়বো

তারপর সে গুলো আমার পাগলা নদীর সাথে মিশে.....

হু হু করে ; ছলাৎ ছল কেঁদে উঠুক গে

তুমি তাতে ডুব দিয়ে লোম দিয়ে অমৃত শুষবে?

শুনছো মিতা?
একটা নদী কিনছি তোমার জন্যে.....

চারিদিকে এত বালি জমতে জমতে.... 

বুকের দেওয়াল গুলো কি পুরু শক্ত হয়ে উঠছে।

রোজ রাতে চুপিসারে অমৃত মেশাবো সেই জলে।

ওগো শুনছো?
দেশটার জন্য একটা নদী কিনছি.....

সার দিয়ে পাহারায় থাকবে অজস্র ময়ূর কেবল,

টুকরো টুকরো অশ্রু ধার দেবে আমায় গো?
একটা নদী বানাবো
কিনতেও রাজি তোমার কাজলের সাথে শুকিয়ে যাওয়া অশ্রুগুলো

মাইক্রোস্কোপ দিয়ে তুলে নেবো..... 
বুকের পাথরের দেওয়াল গুলোকে ছাড়িয়ে ফেলবো। 

★লেখা : প্রস্তরীভূত 
★কলমে : বিষফল ( 19.05.2024), 10.50 P.M

★★★ বিশেষ দ্রষ্টব্য : লেখার সাথে ব্যবহৃত মুখাবয়বটি/ ছবিটি গুগল থেকে সংগৃহীত

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

কথোপকথন (১)


ভালোবাসা টা কি, কি করে বোঝাই?

কেউ তোকে কাঁদার সময়, মাথায় হাত রাখেনি নাহ?

যখন ভয় পাস, শক্ত করে হাতের আঙুল গুলো ধরেনি নাহ?

খুব জ্বর হলে হাতের উপর কপালে হাত রাখেনি নাহ?
চোখ থেকে জল আসলে আঙুল দিয়ে মুছিয়ে দেয়নি নাহ?

তোর কষ্ট হলে, অন্য বুকে কষ্ট বাজতে শোননি নাহ?

আর খুব কাঁদতে ইচ্ছে হলে, তোকে বুকের মধ্যে চেপে বলেনি কাঁদিস না ?

★ লেখা : কথোপকথন (১)
★ কলমে:  বিষফল , 12.41 A.M.( 24.04.2024)

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

মিস্ট


আমি চাইলেও আর বৃষ্টিতে ভিজতে পারবো না হে....
বুকে পেসমেকার যে।
আর পকেটে সেলফোন

বৃষ্টিতে চাইলেও আর ভিজতে পারবোনা হে....

তুমিও ব্যস্ত হবে কানের এয়ারবাডটার জন্য 
মানিবাগের উদরে দখল নিয়েছে যে সাম্রাজ্য 
তারজন্য ও ছুটবে, ছুটবো নিরাপদ ছাদের আশ্রয় 

হাতের মুঠিতে হাত থাকবে, বৃষ্টি থাকবে না আর কোন....

বুকের সেলফোন, হেডফোন ইত্যাদি আরো
হে প্রজন্ম আমি বৃষ্টিতে ভিজবো কি রকম?

নিঃস্ব করো এখনই বাকলের আয়োজন
শূন্য করো তৃণের মতো মানি ব্যাগের উদর

বৃষ্টি তুমি নামো, আমি ভিজবো।

বুকের পেসমেকারটার জন্য বড্ড ভয় হয়

অকেজো করে নীল মৃত্যু হলেও দাও 

আমি পা মেললাম, তুমি নামো প্রস্তুত এখন।

পকেটের কয়েন গুলো ছড়াক কাদায়....

★ লেখা : মিস্ট
★ কলমে : বিষফল (19.04.2024), 07.29 P.M

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

সার


মাঝরাতে চাঁদ ডুবে গেলে থপ করে বসে পড়ি খ্রিস্টান সমাধিতে, 

ধীরে ধীরে মুছতে থাকি মার্বেল থেকে হৃদয়ের রক্তগুলোকে।

ইশারায় চুপ করতে বলি ঝিঁঝি পোকাগুলোকে.... 

মাঝ রাতে চাঁদ ডুবলে,

লিকলিকে হাড় হিম রাত্রি নামে।

কুয়াশায় স্পষ্ট দেখি ওরা আমার চারিদিকে সার দিয়ে দাঁড়িয়ে.... 

ওদের চোখে জলের রেখাগুলো শুকিয়ে।

ওদের প্রত্যেকের একই নাম, একই পোশাক শরীরে।

অতীত আর মৃত্যু সমার্থক, তার মাঝখানে ক্রস দাঁড়িয়ে। 

মাঝরাতে চাঁদ ডুবে গেলে থপ করে বসে পড়ি খ্রিস্টান সমাধিতে.....

দু হাত দিয়ে পকেট থেকে মোড়ক ছাড়িয়ে

বিস্কুট গুলোকে চেপে গুঁড়ো গুঁড়ো করে

অল্প অল্প করে রেখে আসি ধীর হেঁটে প্রত্যেক সমাধিতে।

রাত ঘুমাবে অভুক্ত থেকে?

★ লেখা - সার

★ কলমে : বিষফল, (26. 12.2023) 10.57 P. M

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

মুদ্রা

রাত....
চুটকিতে সমস্ত আলো গুলো নিভিয়ে দিলাম
গুমটির টিমটিমে আলোয় কয়েক প্যাকেট ধূপ পকেটে গুঁজলাম।
হনহন করে এগিয়ে গেলাম।
যে রাতে গাছেদের ফিসফিসানি শোনা যায়....
নাহ, জ্বাললাম।
বিড়ির আলোয় একটা শবের চাতাল খুঁজে বসলাম।
চারপাশে চারদিকে আরো কত উঁচু বড়ো স্মৃতি চাতাল।

বিড়িটা জোর করে টানতে একটু আলো ঠিকরে বের হয়....

ধূপকাঠি গুলো সে আগুনে চেপে ধরে ধরে গোল করে পুঁতলাম। 

ভীষণ নিস্তব্ধ একা।

গুটি কয় রঙিন চোখজ্বলজ্বল এদিক ওদিক হয়।
বনবিড়াল।।

মুহুর্তে সমস্ত শব চাতাল গুলোর অতিত একত্রিত হয়।

প্রত্যেকের চোখে জল।।

বিয়োগ শব্দটা গনিতের পৃষ্ঠা থেকে মুছে ফেলবো কাল।

বিয়োগ করছি একে একে সমস্ত পোষাক....

পদ্মাসনে নগ্ন যোগী একা।

পাঁক ছেড়ে উঠে আসে ধূসর গোধিকা।
মুখের মধ্যে পুরে নিচ্ছে রাত।
চারিদিকে তাকিয়ে দেখি একই চিত্র সব।।

তার ঠিক পাসে সদ্য পুঁতে গেছে, শবাসনে অচ্ছুৎ এক নিচু জাত .... 
তারই ঝুরঝুরে মাটি দু মুঠোতে তুলে নিয়ে উঁচু থেকে মুটি খুলে দিলাম....

আসন ছেড়ে খুঁড়েছি ধিরে তারপর ....
ওর হাত.... প্রত্যেকটা আঙুলে প্রত্যেকটা আঙুল উপরে রাখলাম।

এভাবেই মৃত হয় রোজ রাত।।

★★ লেখা : মুদ্রা
★★ কলমে : বিষফল 10.12.2023 ( 12.57A.M)

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

বৈকুন্ঠ

প্রেম কি  হে?
.....ইশ্বরের প্রদীপের সামনে সলতে।। 

হৃদয় কি হে?
......নিভে যাওয়া তলানি সঞ্জীবনী তেল।

মৃত বদ্বীপে যে প্ল্যাঙ্কটন আহারে ব্যস্ত, 
প্রেম ও হৃদয় কি ; সে জানে ।

যে মানুষগুলো মরতে মরতে দীর্ঘ আয়ু পায়, চায়।
ইসিজিতে যার জীবন সরলরেখা ছিলো নিশ্চয়।
প্রেম তা।

ত্রিশ প্লাস ত্রিশ, প্লাস ত্রিশ...... 
উত্তরাধিকার, সলতে বানাতে বানাতে সবারই অপমৃত্যু হয়।

আপনি দাঁড়িয়ে কোথায়?
প্রেম ; হৃদয় কমার্স ক্লাসের খাতায় কাটাকুটি হয়।

তারপর নিভে যায় জোনাকের ত্রাস
বাদুড়ের চিৎকার। 

গুলিয়ে আসে রোজ ওঠা ও বিছানা যাওয়ার অভ্যাস। 
যন্ত্র পৃথিবী,  যন্ত্রণাহীন ভবিষ্য অধ্যায়। 

মিছে, বুড়ো হয়ে বুড়ো পৃথিবীর থুতনি দেখে গুনি নামতা... 

প্রেম কি হে?

ক্রমশ....
কাঁধের পাশে কমছে কাঁধের সংখ্যা। 
ভালো থেকো অতীত ভবিষ্যৎ.... 

প্লাস ত্রিশ,  প্লাস..... 

★ লেখা : বৈকুন্ঠ 
★ কলমে : বিষফল  ( 03.12.2023),  11.07 P.M

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

কৈফিয়ৎ


শিশুর রক্ত লাগা পাথর থেকে কুড়িয়ে খাই ভাত। 
যাদের ভুলে আমার অপত্য মৃত্যু গুলো....
তাদের বিচার চাই আজ। 

আমার শিশুর রক্তে ঢেউ হওয়া উঠান স্তুপে ত্রানের ট্রাক। 
মিত্র দেশের অস্ত্রের ট্রাঙ্ক।
দেশের এক একটা ভবিষ্যৎ হত্যার দায় কার?

সাঁইরেন বাজুক যুদ্ধের আবার....
তবে তা শিল্প ও শিক্ষার।
দেশের ভবিষ্যৎ বিক্রি করে কোন যুদ্ধ নয়।

তোমার সন্তান, আমার সন্তান সমৃদ্ধ পৃথিবীর ভবিষ্যৎ 
শিশুহীন রাষ্ট্রের যুদ্ধ ঘোষণা দাও....
তবেই, তবেই জয়।

বৃদ্ধহীন রাষ্ট্রের যুদ্ধ ঘোষণা দাও....
আহত, রোগী হীন রাষ্ট্রের যুদ্ধ ঘোষণা দাও....
শিশুর রক্ত লাগা পাথর থেকে কুড়িয়ে খাই ভাত।

★ লেখা : কৈফিয়ৎ 
★ কলমে : বিষফল (10.11.2023), 2.00 A.M

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS