RSS
কবি, লেখক, সমালোচক, বাচিক শিল্পী, গল্পকার, মানবতাবাদী, নাস্তিক, যাদুকর

যোগ

এখানে DNA টেস্ট করা হয়, সুলভ মূল্যে। 

সুলভ শৌচালয় নয়।।


এমন বিজ্ঞাপনে কবে ছেয়ে যাবে দেশটা....

হে রাষ্ট্র আমার!


সমস্ত কবর খুঁড়ে সব অস্থিগুলো এক জায়গায় করা হোক এবার

এমন প্রকল্প হোক দেশটার!

সমস্ত গঙ্গা, শ্মশান তন্ন তন্ন করে জড়ো করা হোক ছাই ভস্মও

এমন প্রকল্প হোক রাষ্ট্রের আমার।


স্কুল ব্যাগ কাঁধে বাচ্চাদের মতো গলায় ঝুলবে আমাদের

DNA টেস্টের রিপোর্ট একটা!


অবলা বাছুরের গলার ঘন্টার মতো বাজলে মন্দ ও নয়।


প্রেত লোকে খবর পৌঁছে যায়নি এতক্ষণে বোধহয়?

প্রেত বিশ্বাসী রাও এমন ধারনায় মগ্নও আজ


কর্ন পিশাচিনী জাগাতে শমশানে সার সার নগ্ন সাধকের ভীড় আজ


ত্রাহিত্রাহি লাশের রাত জুড়ে তাই এই চিৎকার? 


বাংলা মদ আর ছোলা ভাজা কিম্বা পিঁপড়ের সার

এমন প্রকল্প হোক দেশটায়।।


নারী শবের তলপেটে পদ্মাসনে আমি আর দেশটা!



এখানে DNA টেস্ট করা হয়, সুলভ মূল্যে। 

সুলভ শৌচালয় নয়।।


মল মূত্রে লেপা সর্বাঙ্গে, আজ রাতে দেবী ডামরী সহবাস।



★লেখা : যোগ

★ কলমে : বিষফল (15.01.2026),  10.37 P.M


 


  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

খবরদার


বুদ্ধিমান মানুষ সুইসাইড করার পরিবর্তে প্রেমে পড়ে।
আসলে; তাতেও সে আরো তীব্র মরে।
দম আটকে যায়, ফাঁস নিলে যেমন হয়।।

বুদ্ধিমান মানুষ প্রেমহীন বাঁচতেই চায় না কোন ভাবে....
আর তাতেই তীব্র মরাটা সৃষ্টি হয়।
বিষ পান করলে যেমন বুকটা, যেমন শুকিয়ে যায়।।

ঈশ্বর আর ধর্মগ্রন্থ গুলোও আত্মহত্যার বিপক্ষে সব
প্রেম, প্রেমই ঈশ্বর।
আসলে ঈশ্বর কি চরম আত্মঘাতী নিজে? তিনিও প্রেমে পড়েন।।

কানা ও কালা হতে বলেনি কোথাও ওহে ধর্মগ্রন্থ? 
কানা ও কালা প্রেমিকই শ্রেষ্ঠ, কম সুইসাইড পিল খায় নিশ্চয়।

আজ সারা রাত হিসাব করবো....
কোন জায়গাটায় ঠিক কষ্ট গুলো আঘাত করে আমাদের সব
সেই অঙ্গটাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কেটে শ্মশানে পুড়িয়ে আসবো।

তার পরে নিশ্চয় আমি ঈশ্বর, প্রেম ময়।।

বহুদিন ধ্যানহীন থাকার পরও সাধক প্রেমে পড়ে....
ছাই ভস্ম মাখে
কেউ কেউ তাকে কলঙ্ক বলে। 

চাঁদ টা ডুবলে, নিজেকে সে অন্ধকারে সিনা চাক হবে আজ।

ততক্ষণে..... 
পৃথিবীর কোনো কোনা থেকে যেনো একটাও আত্মহত্যা না হয়।।

★ লেখা : খবরদার
★ কলমে : বিষফল (07.09.2025),  11.43 P.M

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

খোলস



প্রিয়তমা তুলসী,
গত কয়েকদিন হলো, আমি তোমার হাত ধরলাম
ঠোঁটও ছুঁলাম, সর্বাঙ্গ বুকে নিলাম। 

আজ চোখ বুজলে, আমার সব অতীতও ঝাপসা হয়।
ঘুম ভাঙলে, ঘুমালে, তোমার ছায়া সাথে থাকে আজ।

জানিনে প্রিয়তমা তুলসী, এটা প্রেম কিনা। 
আমি আমার সর্বাঙ্গ দান করে দিলেও, সর্বস্ব টা তোমায় দিলাম

মৃত্যুর পর শরীরটা হাসপাতালের কামরায় চলে যাবে নীরব
এটুকু মেনে নাও।
কিন্তু যে সর্বস্ব টা তোমায় দিলাম, সেটা যত্নে থাকবে নাহ?

প্রিয়তমা তুলসী,
গত কয়েকদিন হলো আমি তোমার বোজা চোখ ছুঁলাম.....
নাভিও ছুঁলাম, সর্বাঙ্গ মুখে নিলাম।

আজ চোখ বুজলে, আমি বর্তমান ছাড়া আর কিছু দেখি না
এভাবেই ঘুমাই জাগি আজ

জানিনা প্রিয়তমা তুলসী, এটা অবলম্বন কিনা। 
আমি আমার শরীরটা অন্য বিছানায় ঘুম পাড়িয়েও, একমাত্র তোমার।

আমার চারপাশে এত হাত, এত চোখ, এত শান্তির স্থল....
কিচ্ছু চাইনা
প্রিয়তমা তুলসী, তুমি কোনো কাব্যিক উদ্ভিদ কিম্বা উপমা নয়

আমার প্রত্যেক মুহুর্তে বেঁচে থাকার ওষুধ ও তুমি বোধহয় আজ

আমার চারপাশে নাগরদোলার মতো সময় পাক খায়....
আমি সময়ের মধ্যে ডুবন্ত, আহত,সেজন্য আজ তোমার?

প্রিয়তমা তুলসী, 
তোমায় নিয়ে আর কোনো কাব্য আমার আসবেনা!

এত বিষবাষ্প বায়ুমন্ডলের বাতাবরণে আজ....
শুধু কি আমিই একা হাঁপিয়ে উঠছি আজ?

★★ লেখা : খোলস
★★ কলমে : বিষফল (29.11.2025),  01.59 P.M

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

ক্ষয়



মনে পড়ে সে ক্ষণ?

টেন্টের চেন খুলে দুজন...
তখন ঘড়িতে ২ টো বোধহয়

মোবাইল ফ্ল্যাশে কুড়িয়ে কুটি কাঠ দুজন

বলেছিলে বিড়ির আগুন আজ এভাবে জ্বালাতে ; আমায়

গ্যাস লাইটার থেকে থিক থিক করে ওঠে আগুন সেসময়

আর আমরা তখন বসেছিলাম...
টেন্টের পাশে জ্বলজ্বলে আগুনের সামনে টায়

আমার কাঁধে তোমার মাথা
পতঙ্গ পুড়ছিলো কিছু চড় চড়

পাহাড়ের মাথায় সেবার আমাদের টেন্ট পড়েছিলো
নিরালায় আর নিয়মহীনতায়

মনে পড়ে সে ক্ষণ মিতা?

মাঝে মাঝে প্রচন্ড হাওয়ায়, তুমি আঁতকে ঘেঁসে বসছিলে...

দূর থেকে ধেয়ে আসছিলো সাইরেন ও টর্চ গোটাকয়

নিরীহ নিরালায় আগুন ক্রমে নিভে যায়

বন্য পশুর তা একেবারে সহ্য হয় না

তারা চায় না দাবানল তাদের রাষ্ট্রে আর!

তোমার আমার হাতে হাত কড়ি, সপাটে হুঙ্কার

ওরা যদি তারা গোনা শেষ হতে দিতো এবার!
পৃথিবীতে হৈ রৈ পড়ে যেতো দুটো প্রেমিক প্রেমিকার

শেষ হয়নি সেবার ঝরণার সব অভিযোগ শোনা
শেষ হয়নি সেবার পতঙ্গ আর জোনাকের সব অভিমান গোনা

ক্রমে ঠোঁটে আবার জ্বলে ওঠে চুল্লি বিড়িটা।।

★ লেখা : ক্ষয়
★ কলমে : বিষফল (11.12.2025),  09.20 P.M

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

জন্মান্তরবাদ


লাইট বোট সুইচ অন....
ধোয়া হচ্ছে জনৈক হৃদপিণ্ড একটা

কয়েক গ্যালন জল মুহুর্তে তোলা হয়
মধ্যরাত আলোয় ঝলঝল
চিক চিক শান্ত জল এবং জলচর

নীলনদের জলে ধোয়া হবে এবার হৃদপিণ্ড এক

এতদিন সেটি প্যাপিরাসে মুড়ে কবর দেয়া ছিলো
মিশরের বালির তলায়।।

যেভাবে রাত্রিরা ঘুমায়....
এতদিন কবির এ হৃদপিন্ডটি ঘুমিয়ে ছিলো মাটির তলায়

সমস্ত মমির প্রহরী দ্বারা ধৌত করা হয় একটা কবির হৃদপিণ্ড আজ

কুয়াশা মাখিয়ে সেটা সেলাই হবে নীলনদের মাঝদরিয়ায়

জীবন্ত হবে একটা মমি আজ

সুঁচ সুতো কাঁচি গজ, রক্তের বরাভয় বোটের পাঠাতন ময়।

ফ্লাশের আলোয় জীবন্ত মমিটা হাঁটু মুড়ে আর্তনাদ করে ওঠে.....

মিতা............ মিতা....... মিতা.......

লোকগুঞ্জন শোনা যায়, দূরের কিনারায়।

প্রেম কিম্বা প্রেমিকা তো আরাধ্য জগতে সবার।।

সেসময় একমাত্র চড়ুই পাখির চোখে থিক থিক করে ওঠে  জল

'আলো নেভাও' হুংকারে বোটের আলো নিভে চিতাকাঠ

ঝুপ করে ঝাঁপ দেয় মমিটা নীলনদের ভীষন গভীরতায়....

সন্তরণ জানতো কবিটা
গন্তব্য? 

মিতা..... মিতা..... মিতা.....

★★★ লেখা : জন্মান্তরবাদ
★★★ কলমে : বিষফল,  06.11.2025 ( 11.10 P.M)

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

সূর্যাস্ত ও সূর্যোদয়



ঘুমটা ভেঙে তুমি এখন ফোনটা হাতে নাও?
নাও

ঘুমাতে যাবার আগে ফোনটা হাতে নাও ; শেষবার? 
তা'ও নাও

ঘুম থেকে উঠে যার মেসেজ না দেখে,তাকে মেসেজ করো কিম্বা কল ।
সে'ই প্রেম তোমার, বাকি সব বোগাস। 

ঘুমাতে যাবার আগে যার হাতে মাথা রাখার বাসনা থাকে না
সেটা প্রেম নয়, স্বাবলম্বী তা।

কানে বালিশ চেপে.... 
পৃথিবীতে প্রথম, শেষ যার শব্দ শোনার তুমি প্রতীক্ষায়,
সে'ই প্রেম তোমার, বাকি সব বোগাস। 

এভাবে অভ্যাসে পড়েছেন কারো কাজকাল?
এর সবকিছু, অন্যথায় হলে চোখ দিয়ে জল আসছে আপনার?
কিম্বা বোবা বুক, পাথর ভার?

তাহলে আপনি...
প্রেমিক কিম্বা প্রেমিকা।।

নাকের উপর পাতা চুঁইয়ে পড়েছে জল কখনও?
ভেবেছেন কি তা, কতক?

আপনি ঠিক ততটাই স্বজ্জন।

ঘুমটা ভেঙে তুমি এখন ফোনটা হাতে নাও?

★ লেখা : সূর্যাস্ত ও সূর্যোদয়
★ কলমে : বিষফল ( 04.09.2025),  8.39 A.M

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

মূকাভিনয়



তোমার মুখটা মনে পড়লে.... 
নিষ্পলক তাকিয়ে থাকি আকাশের দিকে।

আমি দেখি তোমাকে.... 
মুখ ভার করে কেনো থাকো সব সময়ে।

খিলখিল করে হেসে ওঠো
তাও দেখি রোদ ঝলমলে।

আপনারা কি ভেবেছেন?
মেঘ করে আসে কেনো আকাশে?

তোমার মুখটা মনে পড়লে.... 
নিষ্পলক তাকিয়ে থাকি আকাশের দিকে।

আজ কাল আমি রোবটের মতো পা ফেলি এক এক করে
তাও দেখি বুঝি....

বলুন তো কেনো আকাশের বুকে বজ্র কেঁপে ওঠে?

ওর আমার মুখটা মনে পড়লে।।

বলুন তো কেনো বোবা মেঘ তুমুল গতিতে মাটিতে নেমে আসে
এভাবেই প্রত্যেকটা প্রেম তার প্রেমিককে প্রনাম করে।

তোমার মুখটা মনে পড়লে.... 
নিষ্পলক তাকিয়ে থাকি আকাশের দিকে।

আকাশে কেনো তারা খসে জানেন?
এভাবেই আমরা জন্ম দিই অপত্যের।

ওর রক্ত শূন্যতা হলে সাদা সাদা মেঘ দেখতে পান আকাশে,

আর রাঙা হলে?
গোধূলিতে রক্ত লাল লজ্জাতে, তাও আমাকে মনে করে।

জানেন?

তোমার মুখটা মনে পড়লে.... 
নিষ্পলক তাকিয়ে থাকি আকাশের দিকে।

চাঁদ ওঠে তোমার কপালে, তাকিয়ে থাকি সে আলোতে
রাত নামে তোমার মুখে, বুঝি তুমি এবারে ঘুমাতে গেলে।

খুব খুব তোমার মুখটা মনে পড়লে....
তাকিয়ে থাকি আকাশের দিকে। 

যখন মেঘ করে আসে আকাশে....
আমি প্রত্যেক বার একটা করে থার্মোমিটার
পায়রার পায়ে
বেঁধে দিয়ে উড়িয়ে দিই আকাশে

এভাবেই আজ জ্বর নামে ওঠে।

পিদিমের কালিতে টানা করে এঁকে দিই 
বিফল সফর, তোমার স্নানের পর।

★ লেখা : মূকাভিনয়
★ কলমে : বিষফল ( 03.09.2025),  12.05 A.M

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

প্রশ্বাস


তুমি কখনও ভয় পেয়েছো?
ঠোঁট থেকে ঠোঁট নামানোর ভয়
দামোদর...

ঘাড়ের গলার শিরা উপশিরা গুলো ফুলে উঠছিলো যেসময়

কর্পোরেশনের ইলেকট্রিকের তারে যেভাবে ঘুড়ি আটকায়,
ধর্ষিতা কোন নারীর আর্তনাদে তা দোল খায়....

তোমার বুকে তখন ঋতুবতী দামোদর ছলাৎ ছল...

মাথার উপর দিয়ে বলাকার সাদা ডানা নেড়ে জানিয়ে দেয়...
পৃথিবীতে যুদ্ধ নেই আর।

অথচ তোমার সেদিকে ভ্রূক্ষেপ ছিলো না।
আমারও ছিলো না।

অথচ আমি চোখ বন্ধ করলেই ; এগুলোই প্রকটিত হয়।
ঠিক যেমন মৃত্যু পথ যাত্রীর চোখে ডানা ওয়ালা ঘোড়া পরী উদয় হয়।

ঠোঁট থেকে ঠোঁট নামানোর ভয় 
সারা গলার থেকে ঠোঁট নামানোর ভয়
কপালের ঠিকরে পড়া চুল আর সরিয়ে না দেওয়ার ভয়

আর ঠিক তখন কানের কাছে মুখ নিয়ে বলা
বড্ড ভালো বাসিনে তোমায়।

তারপর তোমার রুদ্র মূর্তি থেকে বাঁচার জন্য দৌড়ে পালানোর ভয়

হাতের ডোর শক্ত করে এঁটে বসেছে,সেটা আলগা না করে দেওয়ার ভয়

যতই ঠিক বসাও কপালের টিপ, ফোঁটাও
তবুও তোমায় ঠিক হয়নি বলার ভয়।

পেয়েছো কখনও এ ভয়?

★★ লেখা : প্রশ্বাস
★★ কলমে : বিষফল (05.07.2025), 4.27 P.M

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

প্রস্থান



ভূমিষ্ট শিশু যেভাবে মাতৃ জঠরে ঘুমায়.....
আজ সেভাবে আমার ঠাকুরমা চিতায়। 

শিশুর মুখে যেভাবে নিয়ম বহির্ভূত দিই মধুর ফোঁটা
আজ সেভাবে ঠাকুরমার মুখে সমাজ ছোঁয়ায় আগুন ও ধোঁয়া।

পুড়তে পুড়তে ছাই হচ্ছে ধবধবে কৈশোর, যৌবন, রূপ এক এক....
পুড়তে পুড়তে যেভাবে ছাই হয় সঙ্গম শেষে আমাদের বিছানা।

পাঁচ আঙুল ছোঁয়া পায়ের তালু, টোল পড়া হাসির গাল....
পুড়ে যাচ্ছে আমার ঠাকুরমা.....
আমার মাথায় রাখা হাত
পুড়িয়ে দিচ্ছে মণ সংখ্যার কিছু কাঠ।

ভূমিষ্ট শিশু যেভাবে মাতৃ জঠরে ঘুমায়.....
আজ সেভাবে আমার ঠাকুরমা চিতায়।

কিশোরী নারীটি যে চোখে পতি-প্রেমের রুমাল-কাঁথা আঁকতো একদা..... 
ঠিকরে ছিটকে ওঠেনি সে চোখ লেলিহান শিখায়?

ঠাকুমা, এত বিষ কি তোমার সফল যাত্রার একমাত্র রসদ কোথাও আজ? 
আজ তুমি জানো তা....

যে যাত্রা, একদিন ও যাত্রাও আমার?

ঠাকুরমা, তোমার আমতেল চুরি করা নাতিটা.... 
মুঠিতে দু'টাকার কয়েন আর এক মুঠো মাটি নিয়ে দাঁড়িয়ে আজ

★ লেখা : প্রস্থান
★ কলমে : বিষফল ( 21.06.2025), 09.41 P.M

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

ঘড়ির কাঁটা


আর চলছিলো না
আর, চলছিলো না সময়

পার হচ্ছিলো সব, সকাল-বিকাল-সন্ধা-প্রহর সব

অথচ..... 
আর চলছিলো না
আর, চলছিলো না সময়।

মস্তিষ্কে কখন ক্লান্তি তৈরি হয়?
ওগো, তুমিও একই সঙ্গে ক্লান্ত ছিলে নাহ?

প্রহর গুলো যখন ভুল দুপুর, ভুল শীতকাল ছিলো...
ভুল গ্রীষ্ম এলো, বাইরে তখন জোনাক জোছনা কিম্বা অমাবস্যা

তুমি? 
দম ফুরিয়েছে বুকে ওর, খচ্চরের পিঠে এ ভ্রমন টের পেলে নাহ?

হাঁফাতে হাঁফাতে তুমি সঠিক সূর্যাস্ত দিলে না
আঙুল গুলো ক্লান্ত-অবহেলা ভারে জর্জরিত 

সবার পকেটে হাতে আর একটাও দম দেওয়া ঘড়ি নেই মিতা

যেমন নেই হ্যাঁচাকের সাদা ভঙ্গুর আলোর সূর্যটা

মস্তিষ্কে কখন ক্লান্তি তৈরি হয়?
ওগো, তুমিও একই সঙ্গে ক্লান্ত ছিলে নাহ?

ক্রিং ক্রিং করে আবার বেজে উঠুক সবার ঘরের দেওয়ালটা
একই সময়ে, একই ঘন্টায়....
আমি পৃথিবী থেকে ছিন্ন করবো সময়

যত্নে পাক দেবো আবার ঘড়ির স্প্রিংটায়.......

তুমি? তোমরা?

ভুল সূর্যাস্ত?  ভুল অমাবস্যা? 

আমরা কেউ চাই না, কেউ না পাক।

★★ লেখা : ঘড়ির কাঁটা
★★ কলমে : বিষফল (01.06.2025), 9.51 P.M

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

অধি কার



কৃষ্ণ রাস কি অন্ধ বিশ্বাস?
প্রেমিক তো অন্ধ বিশ্বাসী হতে চায় না
খারাপ কাজ তো প্রেমিকের অবাধ্যতা
তার চেয়ে বড় খারাপ কাজ পৃথিবীতে কখনও ছিলোনা

কৃষ্ণ প্রেম কি অন্ধ বিশ্বাস?
রাধা পৃথিবীতে কত সেকেন্ড কৃষ্ণ হীন, ভেবেছেন তা?

একটা অন্ধবিশ্বাস তো টক্সিকই হয়ে জন্মায় বরাবর

বেশ্যাতো তবু গৃহীত হয়.....
অন্ধ বিশ্বাস নয়।

যমুনা তুমি ফল্গুর মতো মুখ লুকাও.....
পর-বারে তুমি পুরুষ, আমি নারী অভিশাপ রইলো....

কৃষ্ণ রাস কি অন্ধ বিশ্বাস?

তোমার জলপটিটা কাল্পনিক হোক চাইনা
তোমার শরীর ছুঁয়ে যে হট ব্যাগ, ওটা অন্ধবিশ্বাস?

একবার আমায় পুরুষ হতে দিতে হবে প্রেম, অন্ধ বিশ্বাস নয়
প্রত্যেক বার তোমায় রাধা হতে হবে, মনে রেখো বারবার...

প্রেমে সম অধিকার, হে মহামান্য লর্ড মানছি না
আমি ৭০, তুমি ৩০ শতাংশ

আমি কখনও ৯০, তুমি ১০

এই অধিকার চাই, অন্ধ বিশ্বাস নয়।

এই বিশ্বাসে তুমি দূরতর হচ্ছো, এটাই টক্সিক-ইজম

এভাবেই আমি তোমায় স্বীকার করবো পর - বার

যখন আমি নারী হবো....
তোমায় ৯০, আমায় ১০?

এই দাবী করতে দেওয়াটা তোমার নয়, আমার অহংকার হবে তা

জিগ্যেস করেছিলাম.....
অবাধ্য প্রেমিকা কোন পুরুষ মেনে নিতে পারে কি না?

তুমি তোমার নারী জন্মে এ প্রশ্নের উত্তর না দিলেও....
তোমার পুরুষ জন্মের জন্য তোলা থাক।

কৃষ্ণ রাস কি অন্ধ বিশ্বাস?
কৃষ্ণ প্রেম কি অন্ধ বিশ্বাস?

★ লেখা : অধি কার?
★ কলমে : বিষফল (14.05.2025) 10.31P.M

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

আমি, মিতা আর ঈশ্বর



আমি আর ঈশ্বর
দুজনের মধ্যে কোন তফাৎ রাখিনি আজ

অবাধ্যতার জন্য তিনিও ক্ষমা করেননি, হে আদম মহাশয়
আমিও করিনি, যখন সেও আমার প্রেম আজ।

আমি ঈশ্বরের থেকে ক্ষমা শিখিনি, এভাবে শুরু থেকে 
তাই মিতা আজ সীমারেখা এবং আদম আদিপিতা

ঈশ্বরের প্রথম ক্ষমা থাকলে, আজ মানব সৃষ্টি হতো না
আর আমি ক্ষমা করলে, আমি নপুংসক হতাম

মানব সৃষ্টি তাহলে ঈশ্বর অবাধ্যতা? না পরিকল্পিত পরীক্ষাগার?

ঈশ্বর অবাধ্যতায় আদম ইভ স্বর্গ থেকে বিতাড়িত এক লহমায়
প্রেমিকা অবাধ্যতায়, আমিও নিলাম ঈশ্বরের সমতুল্য বিচার

আমি আর ঈশ্বর
দুজনের মধ্যে কোন তফাৎ রাখিনি আজ

ঈশ্বর ক্রোধে যদি প্লাবন, দাবানল, ঘটে নিজ সৃষ্টি ধ্বংস সব....
প্রেমিকের ক্রোধে তার হাতে মায়া, মমতা তছনছ হয় সব

যে প্রেমিকা আলতা কাজলে ঈশ্বরের সামনে জ্বালে প্রদীপমালা
আমি তার চোখে আজ ঈশ্বরত্ব ধারণ করলাম এথায়

আমি আর ঈশ্বর
দুজনের মধ্যে কোন তফাৎ রাখিনি আজ

গরলধর সতীকে পারেনি জীবিত রাখতে বহু চেষ্টায় 
আমিও কাঁধে নিলাম প্রেমিকার শব, পুনর্জন্মের অপেক্ষায় 

★★ লেখা : আমি, মিতা আর ঈশ্বর
★ ★ কলমে : বিষফল (06.05.2025), 04.41 P.M

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

প্রদীপের দৈত্য



"আমার একটা মানুষ" চাইছি 
পেলাম না

হয়তো পেয়েছিলাম কয়েক সেকেন্ড, কয়েক রাত

পরে বুঝলাম নেহাত তার অবসরের প্রয়োজন আর কৌতুহল

"সব রঙীন' প্রজাপতি নয়
কিছু রঙিন পহেলগাঁও আর কশাই খেয়াল।

তারপর পলেস্তারা খসে জিরজিরে বাস্তবতা

"আমার একটা মানুষ" চাইছি 
পেলাম না

আমার গল্পটা সমাজ জানুক আজ
আমার গল্পটা আর আমার নয়
কৌতুহল মেটানোর শখ ও ভালো সময় কাটানোর গল্প আজ তা

 গল্পটা দীপ জ্বেলে যাই, অভাগা প্রদীপের ন্যায়
কিন্তু কখন হঠাৎ প্রদীপ টা বিদ্রোহ করে ওঠে..... 
তার আলো নিয়ে, তার নিজস্ব ঘর, তার নিজস্ব ছাদের চিৎকার

সপাটে চপেটাঘাত..... 
প্রদীপটার কোন ঘর থাকবে না, আরাধ্য থাকবে না

অথচ প্রদীপটা বহু ঈশ্বরবাদ মানছিলো না
শাস্তি হোল তার কঠিন নির্বাসন, প্রাসাদে আর প্রদীপ জ্বলবেনা

প্রদীপটা অভিমান করে আস্তাকুঁড় সব জায়গায় সবার হয়ে উঠলো এবার

গল্পের মোড় এখানেই তরঙ্গ পায়
চতুর্দিক থেকে আওয়াজ আসছে এবার....

আমার একটা মানুষ" চাই 
পেলাম না

অথচ হাতের ধারে ওষুধ তার, দামি পোষাক আর স্বর্গের সিড়ির ধাপ
প্রদীপটা তার নিজস্ব ঠিকানা হীনতায় যে মুহুর্তে আত্মহত্যা চায়,
পেয়েও যায় সামনে প্রকান্ড খাদ আর ঝর্ণা

ডুবতে ডুবতে প্রদীপটা সলতে হীন হয়। 
তার আর কিসের ঠিকানার প্রয়োজন হয়?

সে কেনো বলবে আজ.... "আমার একটা মানুষ" চাইছি 
পেলাম না

পেয়েও ছিলো হয়তো বা, যে মুহুর্ত রঙীন হতো না মৌখিকতায়
তাই পেয়েছিলো হয়তো ভ্রম আর চুড়ান্ত কেমোফ্লেজ তা

যেদিন থেকে প্রদীপের দৈত্যটা প্রেমিকের অবাধ্য হয়,
সেদিন থেকে আলাদীনের প্রদীপ আর জ্বলেনি কোন ঘরে আর!

রাস্তার ধারে জ্বলা প্রদীপের কাজল তুমি চোখে তুলে নাওনি তো আজ?

★★ লেখা : প্রদীপের দৈত্য 
★ ★ কলমে:  বিষফল (06.05.2025), 02.40P.M

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

ইতি প্যাহেলগাঁও



প্যাহেলগাঁও, কাল যদি বরফকণায় আমার মিতার রক্ত মিশতো ফোঁটাকয়

আমি তোমার জান্নাত নিজে হাতে খুঁড়ে পুঁততাম।

কি ভেবেছো? তোমার জান্নাতের বলি হবে আমার ক্ষুধা
আমার পেশা, আমার সন্তান, আমার প্রেম, আমার মুক্ত আকাশ......

প্যাহেলগাঁও, কাল যদি বরফকণায় আমার মিতার রক্ত মিশতো ফোঁটাকয়

আমি তোমার জান্নাত নিজে হাতে খুঁড়ে পুঁততাম।

তুমিতো জানো প্যাহেলগাঁও, শেষ তোমার কোলে আমি স্বর্গ দেখেছিলাম
স্বর্গেও এত রক্তের দানা? স্বর্গেও এত আসুরিক আস্ফালন হে ঈশ্বর

আমি পাইনের বনে কত ধীর পায় পা ফেলছিলাম....
যাতে একটাও প্রজাপতি আহত না হয়
একটাও ঘাসের ডগায় যাতে পরাগ চ্যুত না হয়, খেয়াল রাখছিলাম

ওই তোমরা বরফদানায় এঁকে দিলে রক্তের কণা! 

তোমাদের কাল্পনিক স্বর্গের বলি হয় আমার স্বপ্ন, সন্তান
বুক চাপড়ে কেঁদে উঠছে মিতা
তোমাদের খুঁড়ে পুঁততে আমার হৃদয় কাঁপছেনা।
তিরতির করে যতই কাঁপুক পাইন পাতা
যখন কাঁদুক ঘাসের পরাগ

প্যাহেলগাঁও, ভূস্বর্গে আর একটাও আসুরিক রক্তের বীজ অঙ্কুরিত হবে না
স্বর্গে আর একটাও মানুষ রক্ত ঝরণা দেখতে চাই না

জলাতঙ্ক মগজগুলোর শেষ ঠিকানা আমরা সবাই জানি আজ.....
শকুনের চাষ আবার শুরু করে দেবো আবার তোমাদের শরীরী কণায়

ভুলো না......

প্যাহেলগাঁও, কাল যদি বরফকণায় আমার মিতার রক্ত মিশতো ফোঁটাকয়

আমি তোমার জান্নাত নিজে হাতে খুঁড়ে পুঁততাম।

তিরতির করে যতই কাঁপুক পাইন পাতা
যখন কাঁদুক ঘাসের পরাগ.......

★ লেখা : ইতি প্যাহেলগাঁও
★ কলমে : বিষফল (23.04.2025), 08.09 P.M

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

উদাস


চৈতো গাজন আর মাঠের মুগ কড়াই শুঁটি ছেঁড়া।

মিস করি আজ, হে শৈশব....

ঘুঁনি পেতে কিলোর ওপর মাঠের চিংড়ি ভাজা কড়াভর্তি
খুব মিস করি এখন

গ্রামের হাটে ইটের উপর বসিয়ে বাবার বলা কদমছাঁট
মিস করি আজ

বাঁকে করে দই বিক্রেতাদের দই, কিনে খেতে পারিনি আমি সেসময়
মিস করি আমি আজ

যদি কোনদিন মনে হতো আমার সেসময়....
মাটির নরম রাস্তাগুলো একদিন হারিয়ে যাবে হঠাৎ
আমি অনন্তকাল হেঁটে নিতাম।
মিস করি মেঠো পথ তোমায়।

একদিনও জানতে পারিনি আমি হঠাৎ করে হারিয়ে যাবে
আমার থেকে মাঠের ঘাস, ফড়িং ঘুঘুপাখির ডাক.....

আমি এ জীবন চাইনি আজ
চতুর্বেলায় ইট বালি রং এর আস্তরনের মাঝে যেন মমি একটা

মিস করি খুব আমি খুব আবার
নৈতিক অনৈতিক জানি না
ঘোড়া ছুট আর মেলা থেকে কেনা রঙিন নলিভাজার লম্বা প্যাকেট একটা

খুব মিস করছি আজ

মিস করছি সবার সাথে বসে চৈত্র বৈশাখে নিম হলুদ বাটা মাখা সারা গায়ে.....

আর ভাতের সাথে নিমফুল আলুর সাথে ভেজে.....

মিস করছি সন্ধায় চরক মেলায় জিলাপি বসে খেতে আজ.....

★ লেখা : উদাস 
★ কলমে : বিষফল (13.04.2025), 3.43 P.M

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

অধ্যায়


আমি তোমাকে চিনতে পারছি না আর....
কোথা থেকে শুরু করবো আবার সব! 

আমি কোথাও কিচ্ছু দেখতে পাচ্ছি না আর....
অবটিক্যাল লোব সমস্যা কি এসব?

আমি শুরু করবো কিভাবে আর
তা নিয়ে ভেবেছি, উত্তর দেয়নি প্রকৃতি তার।

আমি তোমাকে সত্যি চিনতে পারছি না আর
আমি তবে কোথায় দাঁড়িয়ে আছি আজ?

কোন নদীর ধারে দুদন্ড দাঁড়াতে পারছি না আর
পাহাড়ের কোন খাদের ধারে.....
এক পলকের জন্য দাঁড়াতে পারছি না আর
রাতে আকাশের দিকে মুখ তুলে তাকাতে পারছি না আর
আশ পাশের মানুষের মুখের দিকে আর তাকাতে ইচ্ছে নেই কেনো আর?
ফুল পাখি কারো দিকে তাকাতে ইচ্ছে নেই আর

ধুলো ঘাস মাড়িয়ে চলেছি, তাকাতে পারছি না সেদিকে আর
এম্বুল্যান্স এর সাইরেন, বিয়ে বাড়ির বাজনা
উৎসব.... কিচ্ছু কানে বাজছে না আর

ধানের ফুল ফুটলে কি আনন্দ হতো ভিতরটায়,
আজ সেসব কিছুই হচ্ছে না, 
বাতাসে ঘ্রান নিতে পারছি না
আগে বলতে পারতাম....  এ আতরটা মৃত কোন শরীরের থেকে আসা...
আর ওটা কোন রোগীনির ঠোঁটের ঘ্রাণ....
আকাশে কোন নক্ষত্র পুড়ে গেলে চড়চড় করে শব্দ পেতাম
নাকে পেতাম নক্ষত্র পোড়ার স্বর
চোখ বুজে আকাশের দিকে মুখ করতাম সে সময়।

আজ কিচ্ছু শুনতে পারছি না.....

আমি তোমাকে চিনতে পারছি না আর 
হাতের তালুতে দেখতাম কত স্নেহ দায়িত্ব উপহার তোমার জন্য 
আজ তাকিয়ে দেখি সে হাতে শুধুই শিরা উপশিরার খন্ড খন্ড দাগ

আমি কি করে শুরু করবো আবার?
কোথা থেকে শুরু করবো আবার?

সত্যি বলছি, আমি তোমাকে চিনতে পারছি না আর 

হঠাৎ আমার রুমে..... 
ডাক্তার এসে জানায়
এতদিন আমি আয়ুহীন বেঁচে ছিলাম।
রূপসজ্জায় আমি একজন জীবন্ত মানুষের অভিনয় করে গেলাম এতকাল।

★লেখা : অধ্যায়
★ কলমে : বিষফল (13.04.2025), 2.47 P.M

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

গুমোট


ওই প্রেম?
অনেক কথা জমা হয়ে গেছে

যেভাবে ফেটে ওঠে ভিসুভিয়াস প্রকোষ্ঠ
আর এক মুহুর্ত যদি তুমি ঝগড়া থেকে অবসর নাও
জলের বুদবুদের মতো আরেকটা হৃদয়ের মৃত্যু হবে

ওই প্রেম?
অনেক কথা জমা হয়ে গেছে

কিভাবে শুরু করি ভাবছো?
তুমুল অভিযোগ, তুমুল ঝগড়া দিয়ে আমি শুরু করবো
তুমি নিতে পারবে না জেনেও করবো

আর তারপর......
দুজন নিশ্চুপ, তপস্যায়.....

সৃষ্টি করবো নিখাদ নক্ষত্রমন্ডল

তখন মনে হবে এখন বুকের মধ্যে হাওয়া বইছে
রক্তগুলো মনের আনন্দে চলছে কোথাও

★ লেখা : গুমোট
★ কলমে : বিষফল (12.04.2025), 10.01 P.M

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

শান্তি দান


যেখানে যুদ্ধ দিয়ে জান্নাত কেনা যায়, সেখানে....
বুলেট বারুদ তৈরি হয়।

যেখানে জান্নাত কেনা সহজতর, সেখানে....
অন্য দেশেও শিশু নারী থাকতে পারে না; শেখানো হয়।

সবার নিজের দেশে কেবল শিশু নারী থাকে, 
দেওয়া হয় এ পাঠ।

যেখানে যুদ্ধ দিয়ে জান্নাত কেনা যায়, সেখানে....
পর রাষ্ট্রের যুদ্ধ মদত শোনা হয়।

অর্থ নগদ যুদ্ধাস্ত্র নেওয়া হয়, সেখানে....
মদতদাতা রাষ্ট্র নিশ্চিত করে তার রাষ্ট্রের শিশুর ঘুম ও শিক্ষা

যে রাষ্ট্র রকেট লঞ্চার দিয়ে ঝাঁকে ঝাঁকে গার্ডেনিয়া, ল্যাভেন্ডার ছেটায়,
প্রত্তুত্তরে সেও তো গার্ডেনিয়া, ল্যাভেন্ডার পায়।

আমার বিশ্বের শিশুরা এভাবে কোন দুষ্ট মগজের স্বীকার,
আমার বিশ্বের অসুস্থ, বৃদ্ধ-বৃদ্ধা, প্রেমিকা কারো মদতে.... 
আরো আরো সূর্যাস্ত খোয়ায়।

যেখানে যুদ্ধ দিয়ে জান্নাত কেনা যায়, সেখানে....
বুলেট বারুদ তৈরি হয়।

★ লেখা : শান্তি দান
★ কলমে : বিষফল ( 07.04.2025) 11.40 A.M

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

পিটক


আমি প্রত্যেকটা অসুস্থ মানুষের কাছে সুস্থ ;
আর প্রত্যেক টা সুস্থ মানুষের কাছে অসুস্থ। 

বৈষম্য চাইছি না,
একবার তুমি নারী হয়ে ওঠো।
আর একবার আমায় পুরুষ বানাও।
সেকারণে তোমার অসুস্থতা আজ শারীরিক কোথাও.... 
আর আমার অসুস্থতা তোমার সুস্থ বাতাবরনে কোথাও আজ?

মিতা, সে সম্পর্ক তুমি চাও না।

আজ তুমি পুরুষ, আমি নারী এথায়।।

আজ তোমার ছায়ার পাশে, তোমার সুখের অপেক্ষা, জোৎস্না আর জোয়ার।  
নাহ, আমি তা মেনে নিলাম।
অথচ কারো তোমার ছায়া মাড়ানোর শাস্তি মৃত্যু দন্ড ছিলো একদা।

বিষ পান করলে যন্ত্রণা কতটা?
এ প্রশ্ন কাউকে গঙ্গাধরকে করা মানায় না। 

তুমি জিজ্ঞেস করো প্রায় কি নাম এই অনৈতিক দূরত্বটার?

এই অনৈতিক দূরত্বটাই লাভা মানুষ বানায় আমায়।

পৃথিবীতে একটাও অভিমানের কারন খোঁড়া হয়নি কখনও,
পৃথিবীতে একটাও বোবা হওয়ার কারন খোঁড়া হয়নি কখনও।

অথচ.... 
পূর্ণিমা গেছে, দোল পার্বন
তোমার চারটে দেওয়ালে এত উষ্ণ প্রস্রবণ
খড়কুটো জ্বেলে আগুন পোহাবার কি আর আশু প্রয়োজন!

আমি প্রত্যেকটা অসুস্থ মানুষের কাছে সুস্থ ;
আর প্রত্যেক টা সুস্থ মানুষের কাছে অসুস্থ।

★ লেখা : পিটক
★কলমে : বিষফল (22.03.2025), 01.53 P.M

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

মঙ্গলসূত্রের ইতিকথা


আমার দাঁতের মধ্যে কিলবিল করছে কেঁচো,

আমি কুলিক নদীর পাড়ে মৃত।

সারসের ঠোঁটে আমার চোখ নাক কান,

সেলাম 'কর্নজোড়া'।

তোমার ছায়ায় আমি আমার হৃদপিণ্ড সঁপেছিলাম

বৃষ্টি দিনে ঝমঝম বোটের পাটাতনটায়।

সেলাম বুদ্ধ সেলাম।

আমার বুকের সব স্বর পাখির গুঞ্জনে রেখে এলাম।

হে কুলিক বিদায়। 

বাহিনের খসে পড়া ইটের গুঁড়ো রঙ আমার মাথার চুলময়

তুমি ভালো থাকবে না, জগৎ মানবেনা

এই প্রবাদটার জন্য..... 

আমার দাঁতের মধ্যে কিলবিল করছে কেঁচো,

আমি কুলিক নদীর পাড়ে মৃত।

ঠিক তার পরের দিন ভৈরবী মন্দিরে তুমি অর্পন করলে জবা,

পরনে লাল পেড়ে শাড়ি, চোখে কাজলের নদীবাঁধ,

ঠোঁটে লিপস্টিক, পায়ে আলতা......

স্থির নিশ্চুপ গলায় মঙ্গলসূত্র একটা।

★ লেখা : মঙ্গলসূত্রের ইতিকথা

★ কলমে : বিষফল ( 02.17 P.M), 28.01.2024

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

গোলাপ


তুমি কাছে আসলে...

রোজ কোথাও না কোথাও গোলাপের জন্ম হয়।

★★বিষফল 08.03 A.M ( 10.01.2025)

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

চিয়ার্স


আমি হিপনোটিজম জানি স্যার,
কোন ম্যাজিক মঞ্চ থেকে শেখা নয়। 

আমার প্রেম হিপনোটিজম জানে না.....

আমি হিপনোটিজম করে মৃত্যু কে কারাগারে পুরে রাখতে পারি আজ,
আমি হিপনোটিজম করে যন্ত্রণা থেকে তুলে আনতে পারি
একটা হাসি, একটা স্বজনের চোখের জল।

আমি হিপনোটিজম জানি স্যার।

আমি হিপনোটিজম করলে......
তুমি হাসপাতালের বেডকে কড়ে আঙুল দেখাতে পারতে,
আমি হিপনোটিজম করলে..... 
জগতে সূর্য ওঠে,
আমি হিপনোটিজম করলে..... সদ্য জাত শিশু ককিয়ে কাঁদে,

অথচ, সেই আমিটা আজ ক্লান্ত
বুজে আসছে চোখের পাতা অহরহ
বুকের মধ্যে টর্নেডোর উৎপাত; হৃদপিণ্ডকে চলকে দেয়
থমকে আসছে ফুসফুস, ফিকে হচ্ছে রক্তের রঙ....

আমি হিপনোটিজম জানি স্যার। 

"রেস্ট নাও, রাখো..."
কপালে আমার যাদু মঞ্চ থেকে কেনা নকল হাত।

টেবিলে দুটো চেয়ার, দুটো গ্লাস লাগিয়ে নিয়েছি,
মৃত্যু... 
চিয়ার্স। 

আমি হিপনোটিজম করে..... 
আমি আমার হাত দুটোকে থার্মোমিটার বানাতে পারি স্যার।

★ লেখা : চিয়ার্স
★ কলমে : বিষফল (25.12.2024), 10.54 P.M

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

উইন্ড চাইম'স


কোন এক ঝরণার ধারে মেষ হয়ে জন্ম নিতে ইচ্ছে হয়।

কচি ঘাস আর দুধেল জল....
এক জীবনের জন্য এটুকুই বরাদ্দ থাক।

তারপর গলায় বাঁধা হোক মোটা রজ্জুর ফাঁদ,
টানটে টানতে নিয়ে যাক আমায়.....
কসাই এর ফুলবাগান সহ উঠোনটায়।

কোন এক ঝরণার ধারে মেষ হয়ে জন্ম নিতে ইচ্ছে হয়।

আগুন জ্বালুক পাহাড়ি কাঠ কুটোয় কিম্বা হেমলক....
আমার চামড়া ছাড়িয়ে ঝলসে মুখে নিক পাহাড়ি সন্তান।

লবণ মশলায় পোড়া আমার মাংস মুখে নিক অবশেষে পিঁপড়া।

কোন এক ঝরণার ধারে মেষ হয়ে জন্ম নিতে ইচ্ছে হয়।

কচি ঘাস আর দুধেল জল....
এক জীবনের জন্য এটুকুই বরাদ্দ থাক।

আমার হাড়গুলো সুতো দিয়ে উইন্ড-চাইম'স বানাও....

তুমি ইজি চেয়ারে বসে রোজ শুনো তা?

★ লেখা : উইন্ড চাইম'স
★ কলমে : বিষফল (24.12.2024), 10.55 A.M

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

জোয়ার ও ভাটা


ইট ভাটার সাদা গুঁড়ো মাটিতে জন্ম হয় আমার....
আজ সেই দৈব মাটি মুঠোতে নিয়ে হাওয়ায় ওড়াই।

প্রত্যেকটা প্রাসাদের লাল ইটে আমার মায়ের রক্ত ও কান্না....
আমি কান পেতে শুনি; আমার মায়ের প্রসব বেদনা।

আমার নাকে কপালে ইট প্রনামের গুঁড়ো দাগ....
চিমনির নিচে পুড়ছে টকটকে লাল আমার শিরা উপশিরা। 

শামুকখোল ছিঁড়ে খাচ্ছে প্রজাপতির ডানা....
গলগল করে ফিনকি দিয়ে বের হচ্ছে বাতাসে অণুচক্রিকা। 

আমার দুচোখে মেঘলা ও ঝমঝম বর্ষা.....
পাল খুলে মাঝিটা নৌকায় দাঁড় বায়, চাল ফোটায়।

আজ আমি রাত জেগে ; ছোট মাছ গেঁথে বড়শি স্নান....
দিনের আলোয় আমার মা দুহাতে ইট বানায়....
সভ্যতা পাকা করার পণ তার।

অথচ তার ক্ষুধার পেট পাকা হয়না.... 

পাকা হবে চুল তার, মাটির দলা, ধান.....

পাকা হবে ক্রমশ গায়ের রঙ, দাঁত।

গিজ গিজ করবে বছরের পর বছর ইটভাটার সন্তান। 

আর তারা গড়াগড়ি খাবে মুক্তো সাদা ধুলায়.....

গড়াগড়ি খাবে তাদের পোশাক আর কোমরে বাঁধা দড়িটা।

ইট ভাটার সাদা গুঁড়ো মাটিতে জন্ম হয় আমার....

আমার বাবা কুচি কুচি নিম দাঁতন কেটে বিক্রি করে পাড়ায়,
যখন ভাটি পুরো থকথকে ইটের গাদায়....
আমারও মা টা বের হয় শাড়ির আঁচল নিয়ে গঙ্গায়।
উঠে আসে ফুটফুটে সন্তান.....
আমরা আদরে, উদরে স্থান দিই তা।

★ লেখা : জোয়ার ও ভাটা
★ কলমে : বিষফল ( 23.12.2024), 10.59 P.M

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

উপাসনা

শ্মশান থেকে কুড়িয়ে আনি পোড়া হাড়
সেগুলো দিয়ে গড়েছি আমার হৃদপিণ্ডের খাঁচা
তার মধ্যে পুরি পেসমেকার সহ হৃদপিণ্ড একটা
পোড়া মাংসের ছাইয়ে হাত দিয়ে দলা পাকানো, 
আত্মঘাতী হওয়া জনৈকা নারীর হৃদপিণ্ড একটা....
বুকের মধ্যে রক্ত ছাঁকতে দিয়েছি আজ।

কবর থেকে তুলে আনা মাথাতে সাজাই কচুরিপানা
বেগুনি ফুল, শিকড়....
নিম্নাঙ্গে রেখেছি সরিষার তেলে জ্বালানো প্রদীপ একটা

ঐশ্বরিক উত্তাপ।

জন্মান্তরের উপাসনা সারি এভাবে আজ।

শ্মশান থেকে কুড়িয়ে আনি পোড়া হাড়.... 

মটর ফুলের সুরা কোশাতে তুলে ছুঁড়ে দিই ব্ল্যাকহোলের গলায়,
ছাড়ানো খাসির চামড়া গায়ে জড়িয়ে নিই আজ।
শিকে টাঙানো মাংস থেকে ঝরে পড়ে যে জল
আমি সেই রক্ত ভেজা জল ঠোঁটে জিভে বোলাই তৃষ্ণায়। 

সাপের ছোবলে নীল হয়ে যাওয়া দুটো হাত,
ধারালো তলোয়ারে কাটা পড়ে যেটা বালিতে ছটকায়....
আমি সেই হাত দুটো সুঁই দিয়ে কাঁধে গেঁথে নিই আজ।

শ্মশান থেকে কুড়িয়ে আনি পোড়া হাড়। 

শিশুর হাত থেকে ছিটকে যাওয়া ফাটা বেলুন দিয়ে গড়ি...
নশ্বর ফুসফুস আমার।

ছাগলের পেট থেকে সদ্য পড়া ফুলটা দিয়ে তৈরি হয়....
আমাদের বাসরের ধূপগন্ধী মালা।

এত আয়োজন বৃথা, মিতা
শুধু তোমায় ছাড়া।

★ লেখা : উপাসনা
★ কলমে : বিষফল (21.12.2024) 12.34 A.M

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

চালচিত্র

ছেলেটি মেয়েটির নাম ধরে ডাক দেয়,
মিতা.....
বছর তিনেক পর।

এ চিত্রটির কেমন রূপ হয় কবি জানেন না।

মেয়েটি ছেলেটির নাম ধরে ডাক দেয়,
পলাশ....
বছর তিনেক পর। 

এ চিত্রটির কেমন রূপ হয় কবি জানেন না।

প্রথম গল্পে ছেলেটি বিবাহিত, মেয়েটি বিবাহিতা।
গল্পের পটভূমি কোভিডের সময়.....
স্থান পৃথিবী, পশ্চিম বঙ্গের জেলা

দ্বিতীয় গল্পে ছেলেটি বিবাহিত, মেয়েটি অবিবাহিতা।
গল্পের পটভূমি কলেজ কাঁধ ভার বইয়ের পাহাড়....
স্থান পৃথিবী, এবারেও পশ্চিম বঙ্গের জেলা

এ চিত্রটির কেমন রূপ হয় কবি জানেন না।

কবি কোন নিষিদ্ধ নগরী বা মৌলবাদ অধ্যুষিত অঞ্চলের কথা বলছে না। 
তার দৃশ্যপটের স্থান পৃথিবীর যে কোন প্রেমিক প্রেমিকার।

তৃতীয় গল্পে ছেলেটি অবিবাহিত, মেয়েটি অবিবাহিতা

বছর তিনেক পর 
ছেলেটি মেয়েটির  নাম ধরে ডাক দেয়,
মিতা......
মেয়েটি ছেলেটির নাম ধরে ডাক দেয়,
পলাশ....

যা গেছে, তা যাক তবে আজ ?
আয়ু আর সম্পর্কে জোড়া তালি ; ছেঁড়া জুতার ন্যায়?
অপমান, অসম্মান, বোকা বনা উইঢিপির ন্যায়?

এ চিত্রটির কেমন রূপ হয় কবি জানেন না।

কে বলেছে ক্ষমা ঐশ্বরিক?
হেরে যাওয়া তো.... যুদ্ধ থামানোর ডাক।
ত্রিশুল, সুদর্শন চক্র, খড়গ গুলো ক্ষমার শ্রেষ্ঠ উপকরণ?

ছেলেটি মেয়েটির নাম ধরে ডাক দেয়,
মিতা.....

★ লেখা : চালচিত্র
★★ কলমে : বিষফল (03.12.2024), 9.58 P.M

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

অমৃত রহস্যে


ভিক্ষে দেবে?
কপালের উপর একটা হাত ; আমাকে?

ভিক্ষে দেবে?
ফুসফুসের মধ্যে দুটো ফুসফুস; তোমার?

ভিক্ষে দেবে?
চোখের মধ্যে দুটো কর্নিয়া; তোমার?

ভিক্ষে দেবে?
আরেকটা হাত আমার হাতের মধ্যে? 
ভীষণ শীত করছে।।

ভিক্ষে দেবে?
দুটো ডিফিব্রিলেটর বুকের মধ্যে? 
ভীষণ দম বন্ধ হয়ে আসছে আমার।

ভিক্ষে দেবে?
পাহাড়ি ঝরনার পাসে আমাদের অতীতগুলো পুঁতে?
কালাচের মতো কালো হয়ে যাওয়া হৃদপিণ্ড টাকে?
তারপরই ঘুমাবো
ভিক্ষে দেবে?

★লেখা : অমৃত রহস্যে
★★ কলমে : বিষফল (14.11.2024), 9.32P.M

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

আত্ম - অমর


এ জন্ম কি আমার প্রথম জনম?

কঠিন হৃদয় কি আমার এই একটা জীবনে কেবল?

অমর আমি, তোমার সাথে কতবার মিলেছি জানো তা?

কত বিচ্ছেদ বেদনা বুকে নিয়ে জন্মে মরেছি....
মনে নেই তোমার?

প্রত্যেকবার ছেড়ে যেতে হয়েছে মৃত্যু বন্ধায়....
কেনো এত কঠিন প্রত্যেকটা জন্মে, বোঝনি তা?

এ জন্ম কি আমার প্রথম জনম?

এ জন্মও কি তোমার প্রথম?

কখনও নারী কখনও নর.....

প্রত্যেকবার পালা ক্রমে হারিয়েছি তোমায়।

তুমিও হারিয়েছো আমায়।

ছেড়ে গেছো।

একা আমি পাষান? তুমি নও?

তুমিও হাত বাড়িয়ে সন্তান, প্রেম দুমুঠোতে ধরে রাখতে পারোনি 

বুঝেছি কেনো পাথর তুমিও প্রত্যেক জনমে.....

এত মায়া ছিন্ন কি হয়, যদিও প্রত্যেক জনম।

কখনও লতাফুল হয়েছো তুমি, আমি নিছক ফুল বালক।

তারপর, ভুলিয়ে দিয়েছে মায়া শত সহস্র জন্মের কোন আত্মজ।

ভয় নেই, অমর আমরা মিলবো বহুরুপে, বহু আবর্তে.... 
কঠিনতর হোক হৃদয়।

এ জন্মও কি তোমার প্রথম?

★★ লেখা: আত্ম- অমর
★★★ কলমে : বিষফল ( 30.10.2024), 4.44 P.M

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

অতর্কিতে..

কবির মৃত্যু হয় কিম্বা জানাজা....
কবির পুনর্জন্মে তুমি বিস্মিত নাহ?

মিতা?

তুমি কখনও বসন্তের রং, কখনও হাড় ভাঙা গোধূলি জাতিস্মর। 

পরশ পাথর হয়ে কখনও নদীর কিনারায় বন্ধা ঝিনুক শব ।।

যুগান্তর পার হবে, তির তির করে কাঁপা ফড়িং এর পায়।

ঠিক তখনই কোন এক গভীর সন্ধায়..... 

কবির মৃত্যু হয় কিম্বা জানাজা। 

তারপর হঠাৎ ধ্রুবতারা ক্ষয় .... 

কেঁপে ওঠে ঠোঁটের স্বর।

ব্লাকহোলে প্রচন্ড প্রলয়ে গ্রহদের মরিচিকা ঝড়

কবির পুনর্জন্মে তুমি বিস্মিত নাহ ?

★ লেখা : অতর্কিতে.. 
★★ কলমে : বিষফল ( 14.10.2024), 07.16 P.M

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

স্পর্ধা


কঠিন বিষাদ সময়
কবিতা, শিল্প খাবে না 
যে রাষ্ট্রে বিচার নেই
সুরক্ষা হীনতা
সেখানে কবিতা না না
কবিতার সৃষ্টিকর্তা কোর্ট নয়
বিচারক না
মুহ্য মূঢ় বেমানান
বিলাসিতা না আসলে কেউ কবিতা খায় না

হৃদয় সুখে না থাকলে কেউ কবিতা পড়বে না

চোখে জল নিয়ে আদিখ্যেতা কবিতা কেউ আর চায় না।

বারুদ বিদ্রোহ বোমা কবিতা যোগান দেয় না

নস্যি কিম্বা বন্যায় বিড়ির প্যাকেটও সে নয়।

ঈশ্বর হতে চাওয়া প্রত্যেকটা কবি গুলো আজ জেনে গেছে
তারা পৃথিবীতে বিরল ও বেমানান।

★ লেখা : স্পর্ধা
★ কলমে : বিষফল, (12.09.2024), 8.55 a.m

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

ক্ষতদাগ


গঙ্গা, তোমার নোনা জলে কতটা পাপ ক্ষয় হয়? 
মনের শক্ত নরম মাটিতে কুয়ো খুড়লাম সারা রাত ভীষণ আজ..... 

ঝাঁপ দিয়ে ডুবলাম তাতে কিছুক্ষণ 
ততক্ষণে চোখে মুখে নোনা বাতাস আর হৃদয়ে ইলিশের সংসার।

দেবাদিদেব এক টুকরো স্বর্গ কোথায়?
ঠোঁটে বুকে যোনিতে সমাজের হে প্রেম আমার।

লঞ্চের ঢেউয়ে তছনছ হয়....
পাতার বাতাসে প্রত্যেকটা রাত শরীর এলায়
সুসজ্জিত কামরায়..... রঙিন কাচের মজ্জায়।

হে গঙ্গা, তোমার নোনা জলে কতটা পাপ ক্ষয় হয়?
ডুকরে ওঠা সিগালেরাও আজ চুপচাপ
নয়নে তার শরীরহীন সজ্জা
আতসকাচে রোজ বড়ো করে দেখি প্যারামেসিয়াম।

স্বর্গের দরজায় পা দিয়ে লাথিতে হাট করে দেখলাম....

সন্তান কাঁদছে সন্তান।।
তোমার বুকের মাখন যতটা আজ,
আমার রাতের রুটির আয়োজন তা নয়?

এত নোনা জল কেনো, কার ঘৃণায়?
সূর্যের আগে কার কপালে দিতাম চুমা?

প্রজাপতির ডানায় দু ফোটা ঘাম,
সূর্যের বন্যায় রেটিনা দুটো খুলে ফেললাম।
হে গঙ্গা, তোমার নোনা জলে কতটা পাপ ক্ষয় হয়?

★ লেখা : ক্ষতদাগ
★ কলমে : বিষফল( 01.09.24),  11.32 P.M

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

সাধক ও ঈশ্বর

হাসপাতালের বিছানা থেকে বলছি স্যার

কান্না গুলো শ্যাম্পুর জলে ধুয়ে নিচ্ছি আজ।

সকাল বিকাল

রাত্রিতে বিছানা বন্যা আর কতকাল?

হাসপাতালের বিছানা থেকে বলছি স্যার

ঘুঘুর ডাক পায়রা কাক কতদিন দেখিনা

ট্রামের পাস কাটিয়ে দৌড়ে মেট্রোতে ঠিক কবে উঠেছি মনে নেই আর।

কলা পাতা থেকে কাঁচকলা কবে কিনেছি গ্রাম্যহাট মনে নেই আর।

করমচা পাকা গাল ভর্তি করে দুহাত....
কবে ছড়িয়ে বলেছি ভালো আছি পৃথিবী আমি এথায়

মনে নেই আমার।

বাইরের ঈশ্বর দেবালয় কতটা হাসির খোরাক বুঝি আজ এথায়

হাসপাতালের বিছানা থেকে বলছি স্যার

টিপটিপ করে শিশুর শরীরে যে স্যালাইন পৌছে যায়,

অমৃত তা নয়?

অম্লতে বুক জ্বালা করে ওঠা বমিতে বেরিয়ে আসে যে বড়িটা,

সূর্য তা।

সাদা অ্যাপ্রোনে যে তুতেটা মিশে যায়,
প্রেম তা।

ঈশ্বরের গলাতে কল্পনায় সাপ কেনো দেখে জগৎ হাসি পায়,
স্টেথোস্কোপ ওটা।

হাসপাতালের বিছানা থেকে বলছি স্যার

মাথার পাসে পুষে রেখেছি ফুচকা আইসক্রিম চাউমিন গরম ধোঁয়া উঠছে চা
পচন ধরেছে সেথায়।

এত সাদা থান কপাল ঢাকলে কি করে শান্তির হয় তা?

জরায়ুতে নোঙর গেঁড়েছে নরক নামক শব্দটা

চোখ বুজে অক্সিজেন নিতে হচ্ছে পচে যাওয়া ফুসফুসটায়
তীব্র যন্ত্রনায়......

হাসপাতালের বিছানা থেকে বলছি স্যার

শববাহী গাড়ি থেকে ছিঁড়ে এনো ফুল কিছু গোটাকয়

সার্জিক্যাল ট্রের গজ কাঁচি চিমটায় ছড়িয়ে দেবো.....
প্রেম বিশ্বাস।

ঠিক তখন আমার বুকে স্পর্শ নেয় ডায়াফ্রাম
আমি চোখ মেলে দেখি ঈশ্বর।

হাসপাতালের বিছানা থেকে বলছি স্যার

ধর্ষিতার বুক চেরা রক্ত আমাদের শরীরময়
বালতির জলে কি করে ধোবে তা?

স্কুল বাসের আওয়াজে রোজ কাঁদে হাসপাতালের বেডে শিশুটা

কতদিন প্রজাপতি আর ঘাস ফড়িং দেখা হয়নি তার

ড্রইং পেপারে আকাশ আঁকতে কত নষ্ট হয়েছে জল রং

সকাল থেকে সন্ধা হয়, এত রং কোথা থেকে কেনে ঈশ্বর?

হাসপাতালের বিছানা থেকে বলছি স্যার

★★★ লেখা: সাধক ও ঈশ্বর
★★★ কলমে : বিষফল (23.08.2024), 11.09 P.M

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

কাবিননামা

ল্যাম্পপোস্ট হয়ে ওঠো রজনীতে পুরুষ; এ প্রজন্ম গুলোয়।

প্যাঁচার শীৎকার আর বক শাবকের চিৎকার উরুতে পুষো না আর।

অন্ধকার গুলোয় বাবুই পাখির মতো বুকে জোনাক পুষে রাখো পুরুষ।

প্রজন্ম তোমায় বকপাখি আর সারস হওয়ার ডাক দিয়েছে এখন

তৈরি হও

দুধ দিয়ে রাজপথ আর অন্ধ মোড়গুলোকে ধুয়ে ষাষ্টাঙ্গে প্রণাম করো

আর উচ্চারণ করো.... রক্তের দানা আর পৃথিবীতে ছোঁবে না।

প্রতিজ্ঞা করো পুরুষ সকাল ভোর বিকাল সন্ধা,
অমরত্বের বৃক্ষে তোমার পরশুরাম সাজা লজ্জা ও হিংসার।

সিরিঞ্জ, অপারেশন টেবিল চিৎকার করে কাঁদছে ঠায়....
তার বুকে পরশ পাথর, ছুঁবি আয় আয়।

একবার যদি ঈশ্বর হতাম.....
তর্জনিতে কাচের মতো ভেঙে ফেলতাম, 
একটা রিপুর তাজমহল বানাতাম।

এ শরীরটা বৃদ্ধ হবে, মৃত্যুতো আমার  সহোদর।

নখ গুলোতে একটাও রাত আর খামচাতে দেবো না নপুংসক ঈশ্বর।

★ লেখা : কাবিননামা
★ কলমে : বিষফল (13.08.2024), 08.36 P.M.

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

রক্তবাস

শিরার রাজপথে ঘুমালাম গতরাতে.....
কি বিদ্রোহী রক্তের তোলপাড় বুদবুদ শব্দে।

ঘরের ছেলের ঘরে না ফেরার আর্তনাদ সেই রক্তের স্রোতে
শুনেছি বিনিদ্র রজনী জেগে
আধা তন্দ্রাতে।

হুটহাট বুলেটের আতঙ্কে ঝনঝনিয়ে লাফিয়ে উঠেছে
শিরা গুলো ক্ষনে ক্ষনে।

কল কল শব্দে শিরার বুকে কান পেতে শুয়ে কাটিয়েছি গতরাতে।

ফিনকি দিয়ে রক্ত বয়ে চলেছে অসুখ আর বিদ্রোহের দাবানল নিয়ে।

ঝালাপালা শব্দে দুকানে কন্ডোম নিয়েছি ভোররাতে।

এভাবেই বিপ্লব আর নিদ্রাকে আপোষ করে গেছি গতরাতে।

চিৎকার করে ওঠা দাবিতে টনটন নারীর বুকে,
রক্তের রঙিন স্যাম্পেন খুলেছি ঠিক গতরাতে।

এত রক্ত, এত মানুষের বুকে ফোয়ারার মতো সারসার রাজপথ

লজ্জিত হওনি? ভাড়াটে উর্দি, বুলেট?

আমার মায়ের চোখের কান্নায়, আগত আগষ্টের বর্ষা।

তুমি শুনতে পাচ্ছো?

সে তার গর্ভাশয়ে কতটা ভরেছে বিপ্লব?

ছাত্রের বুকে নিথরে ঘুমায় প্রেমিকা বুলেট গোটাকয়।

★ লেখা : রক্তবাস
★ কলমে : বিষফল (24.07.2024), 12.32P.M

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

ভেল্কি


মৃত্যুর রং মোমবাতির আলোর মতো......

শত সহস্র জ্বলা মোমবাতির কাছে আমি স্থির, মাথানত। 

প্রহরীরা ঘুমে ঢুলছে তখন......
আমি টপকে উঠে পড়ি হাসপাতালের ছাদের উপর। 

শহরের, গ্রামের প্রত্যেকটা হাসপাতাল, মর্গ নিথর। 

আমি প্যাঁচা আর বাদুড়ের গলা টিপে দুহাতে.....

ফস করে যোগ দিই মোমবাতির সতীদাহে, চিরন্তন।

শত সহস্র মোমবাতির আলোতে আমি প্রীয় মৃত্যুকে  সেলিব্রেট করি এভাবে এখন.....

নতজানু হই দরগা, মন্দিরে, মিছিলে, চার্চে......
মৃত্যুর রং মোমবাতির আলোর মতো।

হাতের গ্লাসে মরার ঘিলুর সরবত,
গন্ডিতে মোমবাতি নক্ষত্র মন্ডল। 

ধোঁয়া উঠছে কোথাও কোথাও...
সলতের কি তীব্র বমি ওঠা চিৎকার শহরে তখন। 

আমি নিপুণ হাতে নিজ ছায়াপথ অঙ্কনে ব্যস্ত ভীষণ...... 

চিৎকার করে কেঁদে ওঠে লাশকাটা ঘরের হৃদয়। 

দরগার চাদর, প্রতিমার সামনে আমি নতজানু হইনা কখনও,

মৃত্যুর রঙ,মৃত্যুতে আকন্ঠ নতজানু হই প্রজন্মময়।

চুলের অলিন্দে অলিন্দে গুঁজে দিই গুঁড়ো হেনা,
নয়ন প্রান্তরে বুনে দি কাজলের মেঘগুচ্ছ,
কড়ে আঙুলে টেনে তুলি জরা ভার।

মাদারির শেখা শ্রেষ্ঠ ভেলকি আজ জীবনময়।

★ লেখা: ভেল্কি 
★ কলমে : বিষফল (14.06.2024), 12.27 A.M

★★★ বিশেষ দ্রষ্টব্য : লেখার সাথে ব্যবহৃত মোম সহ নারী ছবিটি সংগৃহীত

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

প্রস্তরীভূত


ওগো শুনছো?
দেশটার জন্য একটা নদী কিনছি.......

পাগলা ষাঁড়ের মতো, ওর চোখে একটা লাল কাপড় বেঁধে দোবো

মিতা, তুমি তাতে অশ্রু, কাজল ধুয়ো?

সবার জীবনে একটা করে নদী থাকে,
কি জানি কি হয়, আচমকা সে সব ভাটায় শুকিয়ে কাঠ কেনো যে হয়!

ওগো শুনছো?
দেশটার জন্য একটা নদী কিনছি....

শুকিয়ে যাওয়া নদী গুলোয়, কত্ত পলি সব
আমি চাঁদের আলোয়, জোনাকের আলোয় সব খুঁড়বো

তারপর সে গুলো আমার পাগলা নদীর সাথে মিশে.....

হু হু করে ; ছলাৎ ছল কেঁদে উঠুক গে

তুমি তাতে ডুব দিয়ে লোম দিয়ে অমৃত শুষবে?

শুনছো মিতা?
একটা নদী কিনছি তোমার জন্যে.....

চারিদিকে এত বালি জমতে জমতে.... 

বুকের দেওয়াল গুলো কি পুরু শক্ত হয়ে উঠছে।

রোজ রাতে চুপিসারে অমৃত মেশাবো সেই জলে।

ওগো শুনছো?
দেশটার জন্য একটা নদী কিনছি.....

সার দিয়ে পাহারায় থাকবে অজস্র ময়ূর কেবল,

টুকরো টুকরো অশ্রু ধার দেবে আমায় গো?
একটা নদী বানাবো
কিনতেও রাজি তোমার কাজলের সাথে শুকিয়ে যাওয়া অশ্রুগুলো

মাইক্রোস্কোপ দিয়ে তুলে নেবো..... 
বুকের পাথরের দেওয়াল গুলোকে ছাড়িয়ে ফেলবো। 

★লেখা : প্রস্তরীভূত 
★কলমে : বিষফল ( 19.05.2024), 10.50 P.M

★★★ বিশেষ দ্রষ্টব্য : লেখার সাথে ব্যবহৃত মুখাবয়বটি/ ছবিটি গুগল থেকে সংগৃহীত

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

কথোপকথন (১)


ভালোবাসা টা কি, কি করে বোঝাই?

কেউ তোকে কাঁদার সময়, মাথায় হাত রাখেনি নাহ?

যখন ভয় পাস, শক্ত করে হাতের আঙুল গুলো ধরেনি নাহ?

খুব জ্বর হলে হাতের উপর কপালে হাত রাখেনি নাহ?
চোখ থেকে জল আসলে আঙুল দিয়ে মুছিয়ে দেয়নি নাহ?

তোর কষ্ট হলে, অন্য বুকে কষ্ট বাজতে শোননি নাহ?

আর খুব কাঁদতে ইচ্ছে হলে, তোকে বুকের মধ্যে চেপে বলেনি কাঁদিস না ?

★ লেখা : কথোপকথন (১)
★ কলমে:  বিষফল , 12.41 A.M.( 24.04.2024)

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS