RSS
কবি, লেখক, সমালোচক, বাচিক শিল্পী, গল্পকার, মানবতাবাদী, নাস্তিক, যাদুকর

অস্তিত্বের ওপার


 

এই ঝগড়া, এই ভাব, করবে মিতা?
তুমি আমায় শাস্তি দিলে, আমার চোখে জল।
তাও অমৃত।।
যেদিন শাস্তি থাকবে না কোনো,
সেদিনই অবাক হবো।
তারপরে কাছে ডেকে নিও?
অশ্রু টা তুমি মুছে দিও?
নয়তো শুকিয়ে যাওয়া চোখে....
তোমার কাজলে কাজলে ভোরে?
আমি চোখ বুজে...
শাস্তি, শাসন করবে না আমাকে?

এই ভাব এই ঝগড়া, করবে?
এই মিতা?
চুপকরে?
তুমিই না বলেছিলে, আমৃত্যু সাথে থাকবে!
এত দ্রুত অসহ্য হলেম?
কিসের যাপন এ তবে হে?
সমস্ত পৃথিবী থেকে দূরে নিয়ে গেলে,
তুমি মুচড়ে পড়বে?
বিমর্ষ হবে?
তৃপ্তিতে কম হবে, জগৎ সংসার থেকে ওই দূরে?
হে মিতে, বলবে?
তুমি মুচড়ে!

সামনে ফাঁসির মঞ্চে দাঁড়িয়ে
নিজে হাতে কালো কাপড়টা মুখে টেনে নিলেম।
এবারতো মুচকি হাসবে?
দূর থেকে...

সেই তুমিই বুঝলেনা।
যার জন্যে জগৎটাকে স্বর্গ রচলেম!
তোমাতে আমাতে, এত অভিযোগ!
ভালোবাসা ঠাওরেছিলেম!
কালো কাপড়ে, অশ্রু ঢাকা থাক এভাবে।

★ লেখা : অস্তিত্বের ওপার
★ কলমে : বিষফল (18.02.22), 12.31 P.M

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

ডিসপেনসারি


 


 

একটু চুমু খান, আমার সাপের মত লকলকে ঠোঁটের ডগায়

ধুর, আমার তো জ্বর এসময়
তোমার ও স্বপ্নে ভরা আঁখিতে আমার দিকে তাকিয়ে থাকবেন মিতা?
আজ ও ঠোঁটে হাসি নয়
জোয়ার আমার বড্ড ভয়।

তুমি হাত বাড়ালে আমার চোখে সকাল সন্ধা হয়
নয়তো নিদ্রাহীন প্যাঁচার ফ্যাকাসে আস্তানা
আমি চোখ থেকে সরাতে পারি না।

তুমি চোখ বুজে কোথাও হেলান দাও আজ
তোমার হাতের উপরে আমার উষ্ণতম হাত
পুড়ে যাক লোম খড়
অস্বস্তিতে এভাবে ফেটে পড়ে...
চিৎকার করে ওঠো আহ্
মাথাটা ঝাঁকুনিতে বামদিকে সরাও

মিতা,
একটু চুমু খান, আমার সাপের মত লকলকে ঠোঁটের ডগায়

ধুর, আমার তো জ্বর এসময়

অথচ তুমি সেসময় জলপটি খুঁজে সারা
আমার ওষুধের বাক্স কোথায় জানতে চাও

এভাবে আমি সুস্থ হই কোনবার?


★ লেখা : ডিসপেনসারি
★ কলমে : বিষফল ( 13.02.22), 03.10 P.M.


  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

উত্তাল


 

সত্যি আমার খুব বড়ো হয়ে ওঠা দরকার,
ভীষণ বড়ো হয়ে ওঠা দরকার।
পেঙ্গুইনের পায়ের তলায় আজও বাচ্চা হয়ে রয়ে গেলাম।
সেই ডিম ফোটা অবধি আমার স্থান পায়ের তলায়।
আমারও ডানা ঝাপটে একটা সিলকে
দেখিয়ে দেওয়া দরকার
আমার ভীতরের রক্ত জমাট বাঁধতে না দেবার তাগিদে
পিঠে বুক রেখে
সার সার পেঙ্গুইন সভা বানাবার
আমারও দরকার, তাতে....
প্রকান্ড নীল তিমির দাঁতে আটকে
রক্তাক্ত জীবন শ্রেয় আমার।
আমায়ও ছোঁ মেরে তুলে নিক কোন প্রকান্ড অ্যালবাট্রস
তার নখে ঠোঁটে ভিজে যাক
আমার নীল স্বপ্ন সব।
দিনরাত মাথার ওপরে তুষার আর তুষার
মেরু ঝড় আর ইগলুর দংশন

চিৎকার করা সিগাল, আজ আমি তোমার যন্ত্রণা বুঝি সব
কেনো তোমার চিৎকারে আজ আকাশের বুক ফেটে যায়
তিরতির করে কেঁপে ওঠে সে স্বরে
হিংস্র নেকড়ের থাবা
শ্বেত ভল্লুকের দাঁত
সব... সব...
আমার ভীষন অন্ধকার নীল-তিমির জঠর দরকার।
বৃষ্টির পর পুরো পৃথিবীটার মুখ থমথম।
ব্লাকহোলের কেন্দ্র বিন্দুতে আমার জন্য একটা আসন পেতে দাও।
আমায় মৃত-গ্রহে মাথা দিয়ে ঘুমাতে দাও

একটাই মাত্র ইচ্ছা আমার...
শূকরের মাংসে লেবু মিশিয়ে দাঁত দিয়ে ছিঁড়ে খেতাম
বারমুডা ট্রাঙ্গেলের সীমায় কোন উত্তাল জাহাজের কামরায়।
নাবিক পাল ছিঁড়ে দাও

পেঙ্গুইন জীবন আর নয়

★ লেখা : উত্তাল
★ কলমে : বিষফল (04.02.22), 10.07 P.M

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

কালগর্ভ


 

ছুটতে ছুটতে মমির পায়ের তলায় ক্লান্ত আজ।
নতজানু মাথা ঠেকাই
হাতের পানপাত্র খালি এবার
ছুঁড়ে ফেললাম
পবিত্র হৃদপিণ্ড টার ন্যায়
হে ঈশ্বরের জীবাশ্ম, আমি ক্লান্ত আজ
তোমার অলিগলিতে এত পাঁক

পচে যাওয়া ধুলোর ক্ষতে নত দ্রাঘিমা।
তোমার তুলো রসায়ন বুকে ঘ্রান....
আমার শেষ সম্বল।

আমি এখন হাঁটছি স্টানলি সেতুর মাঝবরাবর

দু হাতের শিরা কেটে দিলাম
ধিরে ধিরে বয়ে চলেছে নীলনদটায়
এখন ওর জল গোধূলির ন্যায় ।
পৃথিবী, আঁচলা করে এ জল তোমার গর্ভে নাও
আলেকজান্দ্রিয়া ওটি সাজাও
জন্মহোক আরেকটা ঈশ্বরের সন্তান

আবু সিম্বেলের মন্দিরের চূড়ো থেকে শিঙা ফুঁকানো হোক এবার.....

গাঢ় নীলে ধুয়ে দাও স্ফিংসের মাথা,
ওর পশু শরীরে মাখানো হোক সুগন্ধি মশলা।

পিরামিড অভ্যন্তরে শায়িত হোক আমার পোশাকহীন শব,
জানাজার আদলে হোক আমার শেষ বিদায়।
তুটেনখামেনের মুকুটটা নামিয়ে আমার মুখ ঢেকে দাও !
ততক্ষণে বেড়ে উঠুক সহস্র গর্ভে ঈশ্বরের সন্তান.....

কায়রোর বাজারে বিক্রি হোক মোমূর্তি আমার।
কার্ফু হোক এটা.....

★ লেখা : কালগর্ভ
★ কলমে : বিষফল ( 25.01.22), 08.58 P.M

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

রং....


 

ছুটি নয়?
বনবন করে ঘুরছে সব।
মনে পড়ে যাচ্ছে নাগরদোলা সব
ঘুরপাক ঘুরপাক, ডুব সাঁতার....
ঢুস করে ঠেলে ওঠা শুশুক ও সব?
মৃত্যু নয়?
চোখের কোনে মরচে ভাঙছে কচকচ।
হিম কি ভীষণ রক্ত সব
দাঁড়কাক কাঁদছে কি অদূরে ভীষণ?
ঠোঁটের থেকে চুঁইয়ে আসছে রক্ত
শিয়ালের মতো তালু চেঁটে নিলো
কি বিভৎস
তুমি নয়ন সরাও....
ছুটি এখন?
লাফিয়ে লাফিয়ে উঠছে হৃদপিণ্ডের শিরা সব।
ছিঁড়ে পড়বে এখনি তর্জনি নিশ্চয়
থামাও থামাও জলের ছলাৎ ছল....
কানের মধ্যে তুমি দাঁড় বন্ধ করো আজ।
পাতা পচার গন্ধে উগরে আসছে তরল ঠোঁটময়
মৃত্যু নিশ্চয়?
তুমি কষ্ট পাবে
দূরত্বে দাঁড়াও, বন্ধ হোক ঝড়...
পাতা ঝরছে শরীরময়, জগৎ দেখবো শেষবার।

ভাতটা পরির মতো কি সুন্দর, সূপটা নরকের মতো কি উষ্ণ!
হাঁ..... হাঁ.....
অসাড় কন্ঠ, তোমার চোখে জল?
তোমার শাড়িতে আমার মুখ ঢেকে দাও ।
সূর্য কে একটুও ছুঁতে দিতে দিও না....

ছুটি নয়?

★ লেখা : রং....
★ কলমে : বিষফল ( 21.01.22), 12.55 P.M

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

সংসার পরিক্রমা


 

সুঁই দিয়ে সংসার সেলাই করছে...
আমার সম্পর্কটা।
চোখ তার সুঁতোর আলে ঠায়,
ফ্রেমে বুনে চলেছে ক্ষুধার ত্রিশুল এক একটা।
আমি শান্তিতে চোখ বুজে,
ঘুমাতে পারলাম।
নেমে আসছে কুয়াশার মত নিদ্রা।।

★ লেখা : সংসার পরিক্রমা
★ কলমে : বিষফল ( 06.01.22)

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

রাত্রি রং কাজল



কাজল পরলে নারীকে দিঘি মনে হয়
মুক্তা লুকাতে
শুক্তির মতো খোল মেলে
ও নয়ন
গভীর দিঘি মনে হয়
ডুব সাঁতারে পটু নয়
ডুবতে ডুবতে মৃত্যু হয়

দম আটকে যায়
কাজল পরলে নারী দিঘি মনে হয়

ভিজে পদ্ম তুলি
মাছের অশ্রুগন্ধ দু হাতময়
পদ্ম ডাঁটায় তুমি তুলি দাও
নয়নে রাত্রির ছোপ দিও না
ব্রোঞ্জ-এ বোঞ্জ-এ নদীতট
পিছল পথ
তুমি কান্না থামাও
আমি নিজেকে শাসন করে নেবো আজ
দিঘি এখন ভীষণ ভয়।

★ লেখা : রাত্রি রং কাজল
★ কলমে : বিষফল ( 30.12.21), 07.34 P.M

                                 

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

শিতঘুম আয়


 


আমৃত্যু ঘুমাইনি...
কাল রাত্রি?
ঘুমাই?

সরে সরে যাচ্ছে পাথর বোঝাই শরীরটা,
হালকা হতে হতে ভাসছি বাতাসটায়।
নাকে হাওয়া লাগছে আমার,
পাতাটাও এক পলক নড়ে না !
থামুন থামুন পৃথিবীটা ঘুরে যাক...
কি সাঁইসাঁই বাতাস তার,
লোমে ঢেউ আজ।

ফুরফুর তারা; মিটমিট কাঁপছে ওরা।

তারা, এবার আমৃত্যু ঘুমাবার পালা।

কোন লাশের ভিড়ে আমার মনটা পঞ্চভূতে,
তুলে নিয়ে গেছে তাদের লাশের সাথে।

আমার অজান্তে আমার মৃত্যু হয়ে গেছে।

ঘুমের শৌখিন স্বপ্নে, তেজপাতা ঠোঁটে
উড়ে চললেম....

★ লেখা : শিতঘুম আয়
★ কলমে : বিষফল (29.12.21) 01.25 P.M

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

অনাড়ম্বর


 


সুন্দরবনের কাদা মাটিতে গেঁথে আছে; সমগ্র সম্পর্কের শেকড়।
সুন্দরী সম্পর্কের ধারক।।
ওর শ্বাসমূলে ; চিকচিক বিচ্ছেদের জল।

নৌকার গলুইয়ে দাঁড়িয়ে সূর্যের সঙ্গম দেখলাম।
হে গঙ্গা, তোমার অশ্রুতে আমার পানকৌড়ি অবগাহন দরকার।

জলে ভাসছে আমার শরীরহীন লাশ।
আমার ভেসে যাওয়া লাসে ঝাপটায় গঙ্গার হাত, পা....
গলুইয়ের খোলে সৃষ্টি প্রসব বেদনায়।

পুরুষ-জল উথলে উঠছে প্রবল....
আমি তারাখসার মতো আরেকটা সম্পর্কের অপমৃত্যু দেখলাম।
মাঝি তার হাতের জাল ; নোনা জলে বিসর্জন দেয়।
তরতর করে এগিয়ে চলেছে জলযান,
আমি নিরব...
নিথর
জলে ভাসছে; আমার শরীরহীন লাশ।
আর....
সুন্দরীর শ্বাসমূলে ; চিকচিক বিচ্ছেদের জল।

★ লেখা : অনাড়ম্বর
★ কলমে : বিষফল (20/21.12.21)

★★★ উৎসর্গ করলাম লেখাটি কবি "উত্তম কুমার দাস" (দা) কে। বিশেষ আতিথেয়তায় ও দিন সুন্দরবন জলযাত্রায় ক্ষনকাল। এ লেখার বেশিরভাগ লাইন ওদিন ওনার পাসে বসে উথলে ওঠে আঙুলের ডগায়। স্যালুট কবি উত্তম কুমার দাস (দা) মহাশয়।

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

আহ্


 

মৃতের হাঁ করা মুখে হৃদপিণ্ডটা বন্ধক রাখলাম
পচন ধরুক থিক থিক গাঢ় লালায়।

মৃতের বোজা ভ্রুপল্লব তুলে স্থির তাকিয়ে থাকলাম
ও চোখে তীব্র ভাটা
পাল তোলা নৌকা কবে পার হয় ওথায়?

ঘাসে এত পৃথিবীর কান্না
আমি শরীরে মেখে নিলাম
টানটান স্খলিত হাত পা আমার

মৃতের হাঁ
দু ঠোঁট ছুঁয়ে দিলাম
তর্জনি মধ্যমায়
আহ্
দুনয়ন বুজে নিলাম

সবার নিরবে শেষ উচ্চারিত শব্দ ধরা দিল এবার

হিম শৈল প্রতিটি অনু রক্ত

হৃদপিন্ড গুলোর একটা মিউজিয়াম বানাবো

কবর খুঁড়ি
হাতে ধারালো অস্ত্র

ঘরময় থার থার কাঁচের বয়াম
আর রক্তময় কাঁচি গোটাকয়।

মৃতের হাঁ করা মুখে হৃদপিণ্ডটা বন্ধক রাখলাম

★লেখা : আহ্
★ কলমে : বিষফল ( 16.12.21) 07.19 P.M

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

প্রবাল


 

আমি আমার চোখ দুটোকে বৈদ্যুতিক চুল্লিতে পোড়াবো শ্মশান
হৃদয় ছোঁয়া পাঁজর গুলো চুর চুর পোড়া ধুপকাঠির ন্যায়
আমি দু হাতে কৌটোতে সাজিয়ে রাখলাম তা।
আহ্ কি ঘৃণ্য সুবাস জমাট বাঁধা কুয়াশায়
আমার গালের পাস দিয়ে নেমে আসছে
চরিত্রহীনা লালার প্রবাহমালা
চিৎকার করে ওঠো শৃগাল
তোমার বুকেও নগ্ন ক্ষিদের জমাট হাহুতাশ
আমার চোখে স্বপ্নেরা আর নিড় বাঁধে না
কতকাল আকাশ দেখিনা
নদীতে আমার পাপ, রঙের মতো গুলে যায়
আমি নামি না

আমি তীব্র ভয় পাই নারী, জল
আমি আমার চোখ দুটোকে বৈদ্যুতিক চুল্লিতে পোড়াবো শ্মশান
চিৎকার করে ওঠো শৃগাল

মধ্য রাতে আমি ধুনি জ্বাললাম
হৃদপিণ্ড টাকে আগুনে সেঁকে গঙ্গায় ছুঁড়ে ফেললাম
বুকের মধ্যে সেলাই করে পাথর ভরলাম
নাহ্ আমার আর কষ্ট হচ্ছে না
চোখের ফোটায় আজ থেকে আর মাটি ভিজবেই না

তোমার তুমুল স্পর্শে
মহাকাশ শূন্যতা
বন বন ঘুরপাক খাচ্ছে আমার মাথা
লাফিয়ে উঠছে জলের থেকে মাছ
সদ্য সঙ্গম সারা।
আমি আমার চোখ দুটোকে বৈদ্যুতিক চুল্লিতে পোড়াবো শ্মশান
কতকাল আকাশ দেখিনা
আহ্ কি সুবাস

★ লেখা : প্রবাল
                                        ★ কলমে : বিষফল ( 04.12.21), 10.34 P.M

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

আতস কাঁচ


 

 

আজ আমি তোমাদেরকে শোনাবো আমার জীবনে দেখা প্রথম ভূত দেখার সেই রোমহর্ষক মুহুর্তটা। গল্পের চরিত্র বিষফল কৈশোর থেকে ভূত অনুসন্ধান এ মত্ত হয়। সে ছোট বেলা থেকে অতি ভয় প্রবন। তার বসত বাড়ি নির্জন মাঠের এক জঙ্গল ঘেরা পুকুর পাড়ের পাসটায়। তার বাড়ির আসে পাসে কোন বাড়ি ছিলো না। গ্রামের থেকে বিচ্ছিন্ন একটা অংশ । চতুর্দিকে ধূ ধূ মাঠ। বর্ষায় ধান গাছ চতুর্দিকে চোখে আসে তার। পূর্ণ দ্বীপ যেমন হয়। গ্রামে যেতে হতো বাঁশের সাঁকো পার হয়ে ঘন পুকুর পাড় এর পাস দিয়ে,অনেকটা গিয়ে তবেই লোকালয়।

গুম হয়ে থাকতো পুরো পরিবেশ টা সবসময়। কিছুটা দূরে পর পর ডানে বামে দুটো কবরস্থান। যে পুকুর পাড়ের পাস দিয়ে যেতে হতো, সেটার। এদিকে গ্রামের লোকজন খুব একটা প্রয়োজন ছাড়া আসতোই না। বিষফল তখনই মানুষ দেখতে পেতো কেবল। পুকুর পাড় জুড়ে সার সার নারকেল গাছ, শ্যাওড়া গাছ আর খেঁজুরগাছ, তালগাছ। রাত হলে পুরো এলাকাটায় নাকি ঝটপট শুরু হয়ে যায়। কথিত আছে পুরো এলাকাটা হাওয়া বাতাসের একচ্ছত্র দখলদার। শৈশব থেকে এমনটাই শুনে লালিত হয় মানসিকতায়। রাতের অন্ধকার যত জমাটি হয়, আমি ঘর থেকে বের হতে পারতাম না। কবরস্থান এ সাদা থান পরা লাস দেখে মনে হতো তারা বোধহয় শুয়ে থাকবে আমার সামনেটায়। যদি তারা ক্রমশ উঠে বসে আমার সামনেটায়! তীব্র শঙ্কায় রাত্রি কাটাতাম এমন। ঘরের চতুর্দিকে পুরো গাছ গাছালিতে ঘেরা। পেঁচার তীব্র চিৎকারে শিউরে শিউরে উঠতাম। মা, রান্না করতে করতে মাঝে মাঝে ছুটে আসতো, এসে বলতো পাসে বসবি চল। বাবা অনেক রাতে ফিরতো কাজ সেরে, তিনি কাপালিক-বুকো মানুষ একটা। আবার বেরিয়ে যেতো ভোরের ট্রেনে কলকাতায়।
আমি আর মা থাকতাম । ভয়ে ভয়ে। সেসময় চতুর্দিকের বিভিন্ন সব ভূতের ঘটনা শুনে শুনে তটস্থ থাকতাম। ঠিক পাসের পুকুরে একটা মাছ ঘাই দিয়ে উঠলে চমকে উঠতাম। এতটাই নিস্তব্ধতা আর ঝিঁঝি পোকার ডাক সন্ধা রাত। গ্রাম থেকে ভেসে আসতো বুক ফাটা তীব্র কুকুরের ডাক। আমরা সে সব কান পেতে শুনতাম।
কত শাঁকিনি, গুয়ে পেত্নীর গল্প শোনাতো মা আমায়। তাই বোধহয় শিরদাঁড়া সোজা রাখার প্রচেষ্টা বর্তমান জুড়ে বিষফলটার।

বর্ষায় প্রকৃতিটা কত ভয়ঙ্কর, জোনাক আলোয় ম ম। তা আমরা এমন নির্জনতায় না পৌছলে টেরই পাবো না। কাদা প্যাচ প্যাচে রাস্তা, একটু অন্য মনস্ক হলে আছাড় খাবার ভয়। সোজা কাঁটা ঝোপে নয়তো পুকুরে পুরোটা। দিনেও এ রাস্তায় লোকে আসতে ভয় পায়।

তখনকার সময় গ্রামে গরুর খোঁটা মারা ভূতের বেশ রমরমা। খটাস খটাস। সবাই খুব কান খাড়া করে শুনেছে, বুক ফুলিয়ে বলতো তা। মেছো ভূত গুয়ে পেত্নী নাকি মুখ রগড়ে মেরে দেয় কিম্বা জলে চুবিয়ে। প্রায়শই গ্রামে তখন জলে ডোবার স্মৃতি বুকটা কাঁপিয়ে দিতো আমার।
স্মৃতির গোড়ায় জল সার দিলে অনেক কথা তোড় দিয়ে ভেসে আসে সব।

আমাদের বাড়ির পুকুর পাড়ের ওপার টায় সার সার তালগাছ আর খিরিস গাছ। তার আগে পুকুরের ডানে বামে সার সার বাঁশবন পুরোটা। তখন পাড়ের এক কোনে একটা বাসক গাছ ছিলো ঠাকুরমার হাতে পোঁতা। আহ্ আরো ছিলো কত মোরগজটা ফুলগাছ। আমি সবসময় মাকে বলতাম, আমায় একদিন ভূত দেখিওতো। তখন একটু সাহসে ভর করে চলতে শেখা বলতে পারো।
মা বললো ঠিক আছে তোকে শোনাবো, রোজ নাকি একজন আসে পুকুর পারের ওপার টায়। রাত গভীর হলে। রোজ আসে। সবাই শুনেছে। তাই এটার পর ভূত নেই বলার কারো আর অবকাশ নাকি থাকবে না। আমি ক্রমশ রাত জাগা শুরু করলাম, যদি সে অভিজ্ঞতা আমার হয়।

বাবা অনেকটা রাত করে বাড়ি ফেরে, শিতের সময়। গোলগোল পশমের টুপির রমরমা ব্যবসা। সে টুপি আর চোখে পড়ে না। রাতে প্রকান্ড একটা শিমুল মাছ নিয়ে রাত কেটে কেটে ঘন কুয়াশার মধ্যে দিয়ে বাড়িতে এসে দাঁড়ায়।
মাছটার সাইজ ঠিক হাত তিনেক এর কম নয়।
মা মাছটা ল্যাম্পের আলোয় কুটিকুটি করে নেয়। তখনও গ্রামে ইলেক্ট্রিসিটি ছিলো না। সন্ধার পর মৃত্যু পুরি মনে হতো পুরো আসপাস।

মা মাছ ধুতে পুকুরে যায়, আচমকা দৌড়ে ঘরে এসে ঢোকে। বলে আয়......
দেওয়ালের ঘড়ির দিকে তাকালাম। দিব্যি মনে আছে বারোটা বাজতে দশ মিনিট ঘড়ির কাঁটায়। সেদিন অতি সাহস পেয়ে বসেছিলো আমায়। কোলাপসের গেটটা ঘড় ঘড় করে টেনে বাইরে এলাম। পিছু পিছু মা। চাঁদনি রাত। চাপচাপ অন্ধকার। বাইরে এসে কান খাড়া করলাম। কানে এলো পুকুর পারের ওপার থেকে খটাস খটাস আওযাজ। মা বললো শুনলি? আমি বললাম হ্যাঁ। ক্রমশ এগিয়ে গেলাম বাঁশ ঝাড়ের দিকটায়, পা টলা সামলে নিয়ে আরো এগোলাম। তখনও শব্দটা একটানা.......

আমার এক গ্রামের পাঠশালার মাস্টার, নাম রউপ মাস্টার। তাঁর মা বিষ খেয়ে মারা যায়, তেনার লাস পোষ্টমর্টেম করার পর পুকুর পাড়ের ওপাড়টায় রেখেছিলো। সেই থেকে নাকি ওখানে রোজ তাঁর আত্মা....

আমি এগিয়ে চললাম। মা আটকালো আমায়। তা স্বত্বেও এগিয়ে গিয়ে, সেখানে আজ একটা বড়ো খিরিস গাছ। আজ আমি দেখেই ছাড়বো, যা হয় হবে। তীব্র জেদ চেপে বসে। ভয়ে ভয়ে আর আপস নয়।
শুনলাম, তারপর যেটা দেখলাম....

ফড়ফড় করে একটা কাঠঠোকরা উড়ে গেলো পুকুরের উপর দিয়ে, আওয়াজ বন্ধ হয়। বুঝলাম এটাই ভূতের কারন। মাকে বললাম, নাহ এটা একটা কাঠঠোকরা। রোজ একটা নির্দিষ্ট সময়ে এসে গাছ থেকে ঠুকে ঠুকে পোকা খেয়ে যায়। এটা কোন খোঁটা মারার আওয়াজ নয় আত্মার। ততক্ষণে শরীর থেকে ঘাম জুড়িয়ে যায়, ঠোঁটে জয়ের হাসি ছটফট। মা শুনে অবাক। এরপর থেকে মাকে আর কোনদিন ভয় পেতে দেখলাম না। রাত বিরেতে কত পাখির খটখট ঝটপটানি গাছের পাতা নাড়িয়ে উড়ে যাওয়া স্বাভাবিক বিষয় বুঝেছিলো মা।
সেদিন ওভাবে এগিয়ে না গেলে আজও ভয়ে ভয়ে ভূত রহস্য অন্ধকারে থেকে যেতো বোধহয়। মানসে এভাবে কত ভূত রয়ে গেছে রহস্য অনুসন্ধান এর কারনে। টের পাই তা। ওসময় বুদ্ধি কাজ করে না কারো । মাকে আরো একটা ভূতের রহস্য উন্মোচন করেছিলাম। সে গল্পটা বললো অবসরে কোনদিন নিশ্চয়। আমরা ভয় জন্ম দিই, রহস্য অনুসন্ধান হীনতায়। আজ তীব্র আলোয় ভূতের কনসেপ্ট গুলো অতীত এর দোরগোড়ায়। মন যেখানে অন্ধকারে আলোহীনতায়, ভূতের অস্তিত্ব কেবলমাত্র সেথায়।

★ লেখা : আতস কাঁচ
★ কলমে : বিষফল (08.11.21), 06.46P.M

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

মোচন

 
 

 
 
আমি তোর কাছে রোজ অন্যায় আবদার করবো,
ভালোবাসলে আবদারগুলো অন্যায় থাকে না আর কোন।
সইবে তো আমায় নারী রোজ?

তখন তোমার জ্বর ভীষণ...
আমি অন্যায় রকম জাগিয়ে রাখতাম।
তখন?
আমি জ্বর নিয়ে ভীষণ ছটফট,
তুমি বলতে....
আমার রেষ্ট প্রয়োজন।
অন্যায় এটা নয় একটুও?

আমার হাতের আঙুলগুলো তোমায় রোজ খুঁজতো,
আমার ডানা কেনো ছিলো না, আফসোস করতাম রোজ।
এগুলো অন্যায় ছিলো না তখন?

আমার বুকের পাঁজরগুলো তীব্র কেঁদে ফিরতো,
আঙুল তুলে তুলে অভিযোগ করতাম....
তুমি সে ঈশ্বরগুলোতে সেজেগুজে প্রদীপ দিতে রোজ।
এটা অন্যায় ছিলো না কোনো?

নদীর জোয়ারে প্রকান্ড খালটিতে জল থইথই তখন,
আমি একটা কুঁড়ে বেঁধে তোমায় উপহার দিতাম।
সেটাও অন্যায় ছিলো।

আমি রোজ শত অন্যায় করবো,
ভালোবাসতে পারবে তো আমায় আজীবন?
আমার হাতের কুঠারে কি তীব্র রক্ত মাংস,
বার বার আঘাতে রক্তাক্ত করবো।
যেভাবে নারী ঋতুবতী হয় তেমন....

সইবে তো আমায় নারী রোজ?

ভিক্ষে চাইছি গোপন
আমায় ঈশ্বর বানিয়ে নাও রোজ নিরব
আমি নিজেকে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম প্রেমিক বানিয়ে নেবো।
ঠিক তখন......

আমিও তোমার পা ছুঁয়ে ধূপ জ্বালাবো
দুপায়ের আঙুলে চুমু খাবো।

এভাবে সইবে তো আমায় নারী রোজ?

★ লেখা : মোচন
★ কলমে : বিষফল (09.11.21), 10.09 P.M

 

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS