হাসপাতালের বিছানা থেকে বলছি স্যার
কান্না গুলো শ্যাম্পুর জলে ধুয়ে নিচ্ছি আজ।
সকাল বিকাল
রাত্রিতে বিছানা বন্যা আর কতকাল?
হাসপাতালের বিছানা থেকে বলছি স্যার
ঘুঘুর ডাক পায়রা কাক কতদিন দেখিনা
ট্রামের পাস কাটিয়ে দৌড়ে মেট্রোতে ঠিক কবে উঠেছি মনে নেই আর।
কলা পাতা থেকে কাঁচকলা কবে কিনেছি গ্রাম্যহাট মনে নেই আর।
করমচা পাকা গাল ভর্তি করে দুহাত....
কবে ছড়িয়ে বলেছি ভালো আছি পৃথিবী আমি এথায়
মনে নেই আমার।
বাইরের ঈশ্বর দেবালয় কতটা হাসির খোরাক বুঝি আজ এথায়
হাসপাতালের বিছানা থেকে বলছি স্যার
টিপটিপ করে শিশুর শরীরে যে স্যালাইন পৌছে যায়,
অমৃত তা নয়?
অম্লতে বুক জ্বালা করে ওঠা বমিতে বেরিয়ে আসে যে বড়িটা,
সূর্য তা।
সাদা অ্যাপ্রোনে যে তুতেটা মিশে যায়,
প্রেম তা।
ঈশ্বরের গলাতে কল্পনায় সাপ কেনো দেখে জগৎ হাসি পায়,
স্টেথোস্কোপ ওটা।
হাসপাতালের বিছানা থেকে বলছি স্যার
মাথার পাসে পুষে রেখেছি ফুচকা আইসক্রিম চাউমিন গরম ধোঁয়া উঠছে চা
পচন ধরেছে সেথায়।
এত সাদা থান কপাল ঢাকলে কি করে শান্তির হয় তা?
জরায়ুতে নোঙর গেঁড়েছে নরক নামক শব্দটা
চোখ বুজে অক্সিজেন নিতে হচ্ছে পচে যাওয়া ফুসফুসটায়
তীব্র যন্ত্রনায়......
হাসপাতালের বিছানা থেকে বলছি স্যার
শববাহী গাড়ি থেকে ছিঁড়ে এনো ফুল কিছু গোটাকয়
সার্জিক্যাল ট্রের গজ কাঁচি চিমটায় ছড়িয়ে দেবো.....
প্রেম বিশ্বাস।
ঠিক তখন আমার বুকে স্পর্শ নেয় ডায়াফ্রাম
আমি চোখ মেলে দেখি ঈশ্বর।
হাসপাতালের বিছানা থেকে বলছি স্যার
ধর্ষিতার বুক চেরা রক্ত আমাদের শরীরময়
বালতির জলে কি করে ধোবে তা?
স্কুল বাসের আওয়াজে রোজ কাঁদে হাসপাতালের বেডে শিশুটা
কতদিন প্রজাপতি আর ঘাস ফড়িং দেখা হয়নি তার
ড্রইং পেপারে আকাশ আঁকতে কত নষ্ট হয়েছে জল রং
সকাল থেকে সন্ধা হয়, এত রং কোথা থেকে কেনে ঈশ্বর?
হাসপাতালের বিছানা থেকে বলছি স্যার
★★★ লেখা: সাধক ও ঈশ্বর
★★★ কলমে : বিষফল (23.08.2024), 11.09 P.M






0 comments:
Post a Comment