RSS
কবি, লেখক, সমালোচক, বাচিক শিল্পী, গল্পকার, মানবতাবাদী, নাস্তিক, যাদুকর

কতক বসন্ত

 





"বিষফল" তখন সদ্য মাধ্যমিক পাস করে জয়নগর ইনস্টিটিউট এর বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র। বরাবরই অধ্যায়ন নিয়ে একা একা মগ্ন থাকতো সে ভীষণ। শৈশব থেকে এ যাবৎ কড়া ঘেরা টোপে বইই ছিলো তার এক মাত্র দোসর। বাবাই এনে দিতো যত রাজ্যের বইপত্র। এহেনো জীবন যাপনে তার জীবনে আরেকজন স্থান করে নেয় চরম। নিরবতার অবসান হয় ক্রমশ। কাকতালীয় ভাবে কাকলি আর বিষফল একে অপরের প্রেম হয়ে ওঠে। দুজনের জন্ম ভিন্ন ধর্মীয় পরিবারে। ছেলেটি মুসলিম পরিবারে আর মেয়েটি হিন্দু পরিবারে জন্ম গ্রহন করে । বহু প্রতিকূলতা তাদের সামনে। ভিন্ন ধর্মে বিয়ে প্রথা, বিশেষ করে গ্রামে,তখন তিব্র হিংসাজনক ঘটনা একটা।
কাকলি পড়তো জয়নগর গার্লস স্কুলে, আর বিষফল বয়েজ স্কুলে। তাদের উভয়েরই বাড়ি একই গ্রামে। বড় গ্রামের এ প্রান্ত আর ও প্রান্তে বাড়ি উভয়ের । বাসে করে স্টেশন, তারপর ট্রেনে করে স্কুল যাওয়া। এমনটা ছিলো বর্তমান স্মৃতির পথমালা। নতুন স্কুল।মাত্র কটা দিন ক্লাস করে দিব্যি বাড়ি ফিরছিলো। তখনও বিষফল অপ্রেমিক একটা।
একদা কাকলি, বিষফল আর আরেকটা ওদের পাড়ার দিদি এক সাথে ট্রেনে ওঠে। সেদিন ট্রেন থেকে ওরা নামেনি, নেমেছিলো বিষফল কেবল। পরের দুদিন পর কাকলি আবার স্কুলে আসে। স্কুল শেষে, তাদের দেখা স্টেশনে হয়। বিকাল। একটা স্টেশন পরে মথুরাপুর স্টেশন। দুজনের গন্তব্য এক। তারপর বাসে করে আবার কখনও কখনও সাইকেলে করে বাড়ি ফেরা। ওদিন জয়নগর স্টেশনে বিষফল কাকলির থেকে জানতে চায়, গত সেদিন স্কুল ড্রেস পরে সে কোথায় যায়। কাকলি স্পষ্ট উত্তর দেয় সিনেমা দেখতে যায় । স্কুলে যাবার নাম করে সিনেমা দেখতে যাবার জন্য এমনি-ই কাকলিকে বকাবকি করে বিষফল। পড়াশোনায় অষ্টরম্ভা তার উপর স্কুল কামাই করে সিনেমা দেখতে যাওয়া। তখন আচমকা কাকলি বলে.... 'আর কোনদিন যাবো না', বলে মাথা নিচু করে নেয়। তারপর কিছুক্ষন চুপচাপ। হঠাৎ মাথা তুলে চোখের দিকে তাকিয়ে মুখ চেপে হেসে বলে... 'তুই বললে যাবো, তার আগে নয়'। আবার মাথাটা নামিয়ে নেয়। মুখ টিপে হাসতে থাকে, আমি চোখ সরিয়ে নিই ওর থেকে । জানিনা কি হয়েছিলো তখন, বোঝাতে পারবোনা। চুপচাপ এক জায়গা থেকে ট্রেনে উঠেছিলাম। সেদিন ও আর লেডিস কামরার দিকে পা বাড়ালো না।
তখনও বিষফল অপ্রেমিক একটা। রসকষহীন কাঠখোট্টা। সেদিনটা বাড়ি ফেরে এভাবে ওরা দুজন । এরপর রোজ ওর টিফিন বক্স হাতড়াতাম কেনো জানি না । ওর আগে ছুটি হলে স্টেশনে এসে বসে থাকতো চুপচাপ। স্টেশনে এসে স্কুল থেকে ফেরার পথে খেতাম প্রায় । ও খেতো না, তাই বিকাল পর্যন্ত থাকতো সবটা। রেখে দিতো আমার জন্য বুঝতাম । এলে হাতে ধরিয়ে দিতো গোল টিফিন বক্স আর জলের বোতলটা । তারপর প্রায়শই টিউবওয়েলের জলে মুখ ধুতাম। ও ওর শাড়ীর আঁচল এগিয়ে দিতো, মুখ মুছতো বিষফল।
এভাবে এক সাথে আসা যাওয়া, টিফিন খাওয়া, হাসি ঠাট্টা, কারন অকারনে ওর সাথে মারপিট চলছিলো সব । অপ্রেমিক বিষফল তখনও । একজন কখন যে কার প্রেমে পড়ে, সে ক্ষন নির্নয় করা বড়া কঠিন ও সমস্যার। এদেরও তাই হয়। বাড়ি ফিরে বিষফল ভাবতে থাকে...তুই বললে যাবো। মেয়েটা তবে কি তাকে ভালোবাসে নিশ্চয়? নয়তো এভাবে কেনো বললো? একবার পরীক্ষা নেবো তা। এমনটা বিষফল মনে মনে ঠিক করে নেয়। চলছে ক্রমশ একসাথে আসা যাওয়া। চোখের ভাষা পড়তে চাইতো বিষফল। কাকলির দিকে তাকিয়ে থাকতো তখন নিরব প্রায়শই । ওর হাসিতে গুলিয়ে যেতো সব।
একদিন পরীক্ষা করার জন্য কাকলিকে এক সাথে সিনেমা দেখতে যাবার কথা বললে ও রাজি হয়। স্কুল ব্রাঙ্ক করে সোজা বারুইপুর। দুঃসাহসিক সফর তখনকার সময়। কাকলি টিকিটের টাকা দেয়। "মিলন" সিনেমা হলের নাম। প্রথম সিনেমা দেখা প্রসেনজিৎ এর "অগ্নি পরীক্ষা "। সেই সঙ্গে বিষফল-কাকলির প্রেমের পরীক্ষা শুরু হয়।
নাহ তখনও কেউ কাউকে স্পর্শ করিনি। হাতও ধরতাম না। এতটাই নিরিহ ছিলাম। বাড়ি ফিরলাম। আবার কয়েক দিন পর স্কুল ছুটি করে ডায়মন্ড হারবার। "প্রাণের স্বামী" সিনেমা চলছিলো সেদিন। সে দিন আমরা একে অপরের স্পর্শে প্রেমিক ও অবিচ্ছেদ এর পথচলা শুরু করি। ওদিন অনেক কথা বলি। ওর হাতে হাত রাখি।
হ্যাঁ কাকলি আর বিষফল এভাবে একে অপরের কাছে আসে, পথ চলে দীর্ঘ দুবছর একসাথে ওরা । ধর্ম সেখানে প্রয়োজনে আসেনি একদিনের জন্যে। ভালোবাসতে ধর্ম লাগেনা, জেনেছিলাম সেদিন আরো বেশি করে । আজ সবকিছুর উর্ধ্বে বিষফল একজন নাস্তিক জীবনযাপন করে। তার জীবনের প্রথম প্রেম কাকলি চির মর্মে ।
ওর বাড়িতে মাঝে মাঝে ওকে ইংরেজি পড়াতে যেতাম। ক্লাসে বরাবর ইংলিশে ফাস্ট বয় ছিলাম। ও ইংলিশে কাঁচা। ও ইলেভেনে আর্টস। ইংলিস কম্পালসারি সবার। সন্ধায় ওর বাড়িতে যেতাম। ও ওর বাবার থেকে পারমিশন করে নিয়েছিলো কি করে জানি না, আমায় বলেছিলো মাঝে মাঝে যেতে সন্ধায়। পড়ানোটা মিট করার বাহানা মাত্র একটা। ইংরাজি গ্রামার গুলো বোঝাতাম, ও তাকিয়ে থাকতো হাঁ। অমনোযোগী ছাত্রী একটা, হয়তো আমি শিক্ষক ছিলাম তাই অমন।
ফেরার সময় এগিয়ে দিতে বাইরে বের হতো। দুই পাড়ার মাঝে একটা প্রকান্ড সবেদা গাছ, পাসদিয়ে সরু পায়ে হাঁটা রাস্তা । গাছটা থেকে ওর বাড়ি পনেরো কুড়ি পা, ওই পর্যন্ত ও আসতো। এ পারে মুসলমান পাড়া। আমার বাড়ি একেবারে গ্রামের শেষ সিমানায়।
অন্ধকারে ঝাঁকড়া বড়ো গাছটার নিচে আরো গাড় অন্ধকার ভর করতো। সেই তিব্র অন্ধকারে ওর চোখদুটো দেখতে পেতাম না। ঠিক তখন একে অপরের হাতদুটো শক্ত করে ধরতাম। তখনই বুঝতাম ওর চোখদুটো সেই অন্ধকারেও অনেক কিছু কথা বলতে চাইতো নিরব । আমরা দুজনে চকিতে একে অপরকে বুকের মধ্যে জড়িয়ে ফিরতাম সজাগ। যার আয়ুষ্কাল কয়েক সেকেন্ডের বেশি দীর্ঘায়িত হতো না, পাছে পৃথিবী টের পায় । ওর বাবা আমায় খুব স্নেহ করতো। গ্রামের প্রথম বিজ্ঞানের ছাত্র। কদর করতো, আসলে স্নেহ।
একদিন না কাছে এলে মরতাম। ও ও। আজ; ও স্মৃতি কেবল। কখনও ভাবতাম না, ও কোনদিন আমার জীবন থেকে চলে যাবে বা যেতে পারে কখনও। একদিন যদি না মিট করতাম, ও সোজা আমার বাড়িতে চলে আসতো। গ্রামের সবাই সন্দেহ করতো। একটা হিন্দুর মেয়ে কেনো বাড়ি বয়ে আসে, কি জন্য। গুঞ্জন ভাসতো।
ক্রমে পড়াশোনার চাপ, টিউশন সব জয়নগরে। গ্রামে সায়েন্স এর মাস্টার ছিলো না। আসা যাওয়ায় বহু সময় নষ্ট হচ্ছিলো আমার, শরীরও ক্লান্তিতে জেরবার হচ্ছিলো সেসময়। অগত্যা মেসবাড়ি। হালদার মেসে উঠলাম। আরো মিট ঘন ঘন হলো, অগাধ স্বাধীনতায়। সিনেমা হল, নদীর পাড়। হেঁটেই চলতো সময় পার। তখন ২০০৬ সাল। বৃষ্টি, রোদ, ঝড়, জল এক সাথে অনেক কাটলো এক এক।
বক খালি আজও স্মৃতিময়। সকালে যেতাম, বালিতে হেঁটে, ঝাউবন ঘুরে দেখে, জলে পা ভিজিয়ে ভিজিয়ে চলে ক্রমশ ক্লান্ত হলে বিকালে ফিরতাম। ওর চুলের ঘ্রাণে সর্বদা মোহিত থাকতাম। আজও চোখ বন্ধ করে বাতাসে শ্বাস নিয়ে বলে দিতে পারবো ওর উপস্থিতিটা। এভাবেই চলছিলো সব। আর অন্য দিকে রাতজেগে পড়া। জয়েন্ট এন্ট্রাস এর মেডিকেল, ইঞ্জিনিয়ার এর প্রস্তুতি নেওয়া শুরু হয়। ঘুমাতে যাবার আগে বইয়ের মধ্যে গুঁজে রাখা ওর ছবি দেখে তবেই ঘুমাতাম। এ খবরটা রাতারাতি মেসের সবার কানে এক এক করে পৌছে যায়।
বাবা মাঝে মধ্যে এসে দেখে যেতো আমায়, আমিও একরকম বাড়িতে যেতাম না বিশেষ কারন ছাড়া। আজও মনে পড়ে বাড়ি থেকে ফেরার সময় পিছন ফিরে তাকালে আমার মা, বোন, ছোট ভাই, বহুদিনের পরিচিত ভিটেমাটি, পুকুর, গাছপালা আমায় বোবা টানতো, ডাকতো ...... আমার চোখে জল আসতো। নিরবে চোখের জল মুছে আবার মেসে ফিরে আসতাম। জয়নগর বহুকাল আগে থেকে পৌরসভা, প্রসিদ্ধ ও কীর্তিময় একটা জায়গা।
হঠাৎ মেস বাড়ির এক দাদা আমার বাবার কাছে বইয়ে গোঁজা কাকলির ছবিটা তুলে দেয়। আমি তখন প্রেমের সাথে পথ হাঁটছিলাম। এসে শুনি সব। দু বাড়িতে জানাজানি হয়, বাবার রোষের কবলে পড়লাম । পরে শুনেছিলাম, সেদিন রাতে বাবা ওদের বাড়িতে চড়াও হয়। ফটোটা ওকে দেখিয়ে জিজ্ঞেস করেছিলো ওটা কার? ও বলেছিলো "আমি না"। ওর বাবা ফটোটা হাতে নিয়ে মাথা নিচু করেছিলো। বাবা কড়া কড়া কথা শুনিয়ে বাড়ি ফিরেছিলো।
তারপরেও আমরা মিলতাম।
মেস জীবনের ইতি টানতে হলো সব জানা জানির পর। চলতে চলতে তখন প্রায় দু বছর।। প্রেম, নাস্তিকতার পাঠ, স্কুল লাইব্রেরির সমস্ত বই এক এক করে চষে ফেলা... দর্শন, বিজ্ঞান, সাহিত্য, ধর্মগ্রন্থ, ইতিহাস, ভূগোল প্রভৃতি সব।।
দূরত্ব তৈরি হল। দু বাড়িতে যাওয়া বন্ধ হলো।
পথে টিউশনে দেখা মিলত। বেশিক্ষণ কাটানো বাম ছিলো। বকখালি গেলাম একদিন দুজন। সেদিন বালিতে বসে, চারিদিকে ঝাউবন, খুব কাঁদলাম দুজন। পরস্পর কে আঁকড়ে তখন। সমুদ্র গর্জন, প্রচন্ড বাতাসের শব্দ মুহুর্তে দুজনের কানে পৌছয়নি আদৌ। ওর মাথাটা শক্ত করে বুকের মধ্যে নিয়ে ওর মাথায় হাত বুলিয়ে চোখের জল মুছিয়ে দিয়ে ছিলাম।
এর কিছুদিন পর, কাকলি আরেকটা চরিত্রের সাথে সখ্যতা বানিয়ে ফেলে। বিষফলের পিসির জা এর মেয়ে। ফতেমা। সহপাঠী। টিউশন মেট।
একদিন ওরা দুজন মেয়ে বকখালি পৌছায়। সেদিনটা ওরা বকখালিতে থেকে যায়, রাত্রি কাটায় কোন একটা বাড়িতে স্বল্প টাকায়। বাস পায়নি ওদিন ওরা। কেনো সেদিন ওরা শেষ বাসটা ধরতে দেরি করেছিলো সে রহস্য আজও অজানা। জানা হয়নি কোন ভাবে কারো থেকে, নিরব ছিলো ও বিষয়ে ফতেমা, পরে দেখা হলে । কাকলি বাড়ি ফেরে পরের দিন সোজা, আর পিসির মেয়ে বাড়ি যায়নি বকখালি থেকে ফেরার পর। ফতেমা গিয়ে উঠেছিলো অন্য একটা আত্মীয়ের বাড়িতে। বাইরে রাত কাটানোর জন্যে বাড়ি থেকে ওর দাদাদের কাছে মার খাবার ভয়ে। পরে জানলাম এসব। পিসির জা এর বাড়ি থেকে খোঁজ খবর চললে, বিষফল পৌছে যায় কাকলির বাড়িতে। ওর বোন এসে জানায়.... দিদি তোমার সাথে আর দেখা করবে না।
কি এমন হয়েছে যে কাকলি আমার সামনে মুখ দেখাতে চায় না আর? এ প্রশ্নটা আজও বিঁধতে থাকে বিষফলের বুকটায়। সমস্ত টুরিস্ট স্পট গুলো সম্বন্ধে কম বেশি খারাপ ধারনা সবার থাকে, আঁৎকে উঠতাম। কি এমন হয়েছিলো সেদিনটায়?
জড় পদার্থ ও মানুষ হয়, সেদিন হয়েছিলাম।
নাহ তারপর আর কোনদিন কাকলি সামনে আসেনি আর। সামনে পরীক্ষা এইচ. এস। স্কুল টিউশন বন্ধ সে সময়।
তখনও কারো কাছে ফোন ছিলো না।
অনেকদিন পর ফতেমার সাথে দেখা হলে জানায় কাকলি ভালো মেয়ে নয়। তুই ওকে ভালোবাসিস?
বলে... তার রাত্রি বাসটা বাথরুমে হয় সারারাত । কাকলিরটা সে জানে না, কয়েকজন ছেলের সাথে কথা বলছিলো, হাসি ঠাট্টা করছিলো নাকি শুনেছিলো এইমাত্র । এর বেশি আর কিছু সে জানায়নি আর। ছেলেগুলো কারা কোথাকার? সে প্রশ্নের উত্তর ফতেমা দিতে পারেনি আমায়। এবিষয়টা নিয়ে কথা বলতে চাইছিলো না, দেখছিলাম তার চোখে মুখে অস্বস্তির ছাপ। থেমে ছিলাম। আজও অজানা সেসব।
সন্ন্যাসীর মতো উদভ্রান্ত জীবনে প্রবেশ করলাম। অবিশ্বাস্য মনে হয়েছিলো সব। ওর দূরত্বটা, ওর যোগাযোগ হীনতা, রহস্যময়তা গুলো।
তখন কারো কাছে ফোন ছিলো না।
অনেকদিন পর, ওর পাড়ার সেই দিদির থেকে কাকলির নাম্বার নিই। আমার তখন প্রথম ফোন হয়। ও জানায়... আমি যদি ওর জীবনে আসি, ও সুইসাইড করবে। ওর জীবনে নতুন একজন এসেছে, সে ওর অনেক কাছাকাছি এসেছে । আর সম্ভব নয়।
আমি নিজে থেকে ফোনটা কেটে দিয়েছিলাম। ভালো থাকুক ও। মুক্তি দিলাম, ও মুক্তি চায়।
হাহাকার নিয়ে ওকে মুক্ত করে দিয়েছিলাম এভাবে। আমার স্কুল জীবনে। ও বলতো আমাদের ছেলে হলে নাম রাখবো..... আর মেয়ে হলে নাম রাখবো......
হয়নি সত্য।।
 
 
★ লেখা : কতক বসন্ত
★ কলমে : বিষফল ( 22.08.21) 4.10 A.m.

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

0 comments:

Post a Comment