- গ্রন্থ মূল্যায়ন -
পড়ছিলাম এক "অনু উপন্যাস"। পরতে পরতে এত টান টান সৃষ্টি-কাজ, এক বিরল নিঃশ্বাস প্রশ্বাসের সাথে সাথে পড়ে শেষ করা যায়। হ্যাঁ, আমি পড়ছিলাম আস্তিকপুরের এক কবি, লেখক ও ছড়াকার 'মহম্মদুল হক' এর লেখা "মঙ্গলময়" নামক রহস্যময় এক অনু উপন্যাস।
নাম ও লেখক দিয়ে কিছু মনস্ক বরাবর লেখার ধাঁচ ও কল্পিত তির্যক ব্যঙ্গাত্মক প্লট খুঁজে সরিয়ে রাখে সে সব লেখা ও বইপত্র। এটা চরম হতাশার সাহিত্যের মুক্ত মঞ্চটায়।
নাহ, এমন কিছু হয়নি বলেই নিজেকে ঢুবিয়ে দিয়েছিলামঃ তাঁর লেখা মঙ্গল গ্রহকে নিয়ে এক সায়েন্স ফিকসান।
গল্পের নেতৃত্ব কলকাতার বিজ্ঞানি ধনচাঁদবাবু যেনো এক "ভেতো বাঙালি - অকর্মার ঢেঁকি" শব্দ গুলিকে নিমেশে ফুৎকার দিয়ে লালমাটি মঙ্গল গ্রহে তাঁর স্বপ্নের মহাকাশযান "জিনিয়া" নিক্ষিপনে অপেক্ষামান। বহুবিধ বাঁধা অন্তর্ঘাত অতিক্রম করার পর। একের পর এক
খুন, চক্রান্ত, প্রেম, বিহ্বল ও রহস্য জ্বলজ্বলে ছবিতে উজ্বল।
নিখুঁত দৃশ্যপট সব। ছায়াছবির মতো চোখের সামনে স্পষ্ট হবে চরিত্রগুলো পঠনকাল-সময়।
তাঁর অনু-উপন্যাসের চরিত্র গুলো হাতিবাগান, তোপসিয়া, পূর্ব বর্ধমানের আস্তিক পুর কিম্বা সোনাগাছির পল্লির ভীষণ নিজস্ব।
গল্পেঃ " ধনচাঁদবাবু জীবনে এই প্রথম আবেগমথিত কন্ঠে বললেন, লালগ্রহে কেউ কোনদিন যদি তোমার পদবী জানতে চায় তাহলে তুমি নিঃসংকোচে নামের শেষে আমার চাঁদটা যোগ করে বোলো!"
উক্তিটি ছিলো গল্পের বীর নায়িকা, সোনাগাছি পল্লি থেকে তুলে আনা' কঙ্কনা' (কণা) - র উদ্দেশ্যে।
লালমাটিতে পৌছবার পর একের পর এক রহস্য, কঙ্কাল-মৃত্যু, বিভীষিকা। আর মাঝখানে ফুটে ওঠা জীবন সংগ্রাম আর প্রেম সংসার নতুন মাত্রা এনে দেয়।
চরম শিহরণ বিদ্যমান, " কণাই এখন তো তার মস্ত বড় এক বই। ওকে পড়লেই এগ্রহে রচিত হবে মস্ত এক মহাকাব্য"।
কিম্বা, " কি সুন্দরীই না দেখাচ্ছে তাকে। চুলগুলো বেড়ে যুবতী বুকের উপর দিয়ে হাঁটু ছুঁই ছুঁই। ওগুলিই তার লজ্জা ঢাকার আবরণ"।
" কণা ওর দু'হাতের আঙুলের ফাঁকে আঙুল গলিয়ে চাপ দেয়। আদ ঠিক থাকতে পারে না এ স্পর্শের আবেদনে। এখন গাছের নীচে সে তার কামনার সঙ্গীনিকে নিয়ে সৃষ্টির উদ্দামতায় মগ্ন"।
আদমান ( আদ) গল্পের নায়ক।
বিশেষ উপলব্ধিতে,
" এখনো এগ্রহে আগুন জ্বালার ব্যবস্থা নেই। তাই লোভ ভোগের ধোঁয়াও নেই। জীবনে তাই ধোঁয়াশার মানসিকতাও নেই"।
" বাঁচার জন্যে সংগ্রাম আছে ঠিকই তবু একান্ত নিজস্ব এ জীবন ধ্বংসের জন্যে ভুলেও ভাবেনা। শুধু কাজ করে সৃষ্টির জন্যে"।
গল্পে, " গাছগুলো মানুষের যত্ন পেয়ে বাচ্ছা ছেলের মত দামাল হয়ে উঠেছে"।
আর কণা আর আদ, " পাসাপাশি বসে ওরা কত কথা- কত স্বপ্ন গড়ে চলে তার পর...... "।
মঙ্গলে জলকেলির পর, " কণাও আদের দিকে বিহ্বল ভাবে চেয়ে আছে। দেখার ভুল হয় নি তো তার? সে তো আদই ! কি অসম্ভব সৃষ্টি এক পুরুষ ! ওরা এভাবেই দাঁড়িয়েই থাকে । চুল থেকে জল চুঁইয়ে শুকিয়ে চুল রেশমের মত হয়ে গেছে তবু পরস্পরকে দেখা যেন শেষ হয় না। মুহুর্তে মুহুর্তে ওদের সৌন্দর্য্যতা যেনো বেড়ে যাচ্ছে। আদ কণার কাছাকাছি হয়। কণা মাটির দিকে দৃষ্টি নামায়"।
এখন নিখুঁত বর্ননা পুরোটাতে।
চোখ বন্ধ করে পাশাপাশি শুয়ে চিত হওয়া কণাকে, " আদ বলে, কত তারা ফুটেছে দেখো কণা !
ইস্! সত্যি তারা তো! কণা উঠে বসে "।
" চুপি চুপি কানে কানে বলেছিলো, তুমি কিন্তু চিরকাল আমার কাছে এই আদিম পুরুষটি হয়েই থেকো আদ" !
হলপ করে বলতে পারি সহজ সরল ভাবে আবেগময়তা পুরো অনু উপন্যাস টিতে আপনাকে কল্পনায় এক অন্য জগতে পৌছে দেবে।
★ গ্রন্থ দৃষ্টিপাতে : বিষফল ( 22.09.21), 04. 34 P.M.








0 comments:
Post a Comment